যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি উপেক্ষার শিকার হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ওহাইওর টোলেডোতে এক প্রচারণা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে খবর দিয়েছে বিবিসি। সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আপনাদের নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিষয়ে বলব। আমি একটি চুক্তি করেছি, একটি দেশকে বাঁচিয়েছি। তারপর মাত্র শুনলাম, ওই দেশটির প্রধান দেশটিকে রক্ষা করার জন্য এখন নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বললাম, এর সঙ্গে আমার কিছু কি করার ছিল? হ্যাঁ, তবে আপনারা জানেন, এটি এমনই। ওই বিষয়ে আমরা যতদূর জানি, আমি বড় একটা যুদ্ধ বাঁচিয়েছি, আমি তাদের কয়েকটিকে যুদ্ধ থেকে বাঁচিয়েছি।’
ট্রাম্প এমন কথা বললেও ওই নোবেলজয়ী বা দেশটির নাম নেননি। কিন্তু এটা স্পষ্ট, তিনি ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের কথা বলেছেন। কারণ তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর একমাত্র সরকারপ্রধান হিসেবে আবিই নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে নোবেল কমিটি তার নাম ঘোষণা করে। পরে ১০ ডিসেম্বর পুরস্কার গ্রহণ করেন ৪৩ বছর বয়সী এই প্রধানমন্ত্রী।
২০১৮ সালের এপ্রিলে ক্ষমতায় আসার পর আবি রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে ইথিওপিয়ার জনগণের মধ্যে ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ইথিওপিয়া-ইরিত্রিয়া সীমান্তে যুদ্ধের অবসানে আলোচনায় বসার প্রতিশ্রুতি দেন। ১৯৯৮ সালের মে থেকে ২০০০ সালের জুন পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আফ্রিকার দেশ দুটিতে প্রায় লাখখানেক মানুষ নিহত হয়। আবি আহমেদের উদ্যোগে দুই দেশ যুদ্ধাবসানে একটি শান্তি চুক্তি করে, যেটি তাকে নোবেল পুরস্কার এনে দেয়। এই চুক্তির ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রের তেমন ভূমিকা ছিল না।
অবশ্য আগেও ট্রাম্প একাধিকবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ এবং নিজের অন্যান্য ভূমিকার জন্য নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত বলে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন।
