বিসিবি চাইলে নেতৃত্ব ছাড়বেন মাশরাফী

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ০১:০০ এএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড চাইলে বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দেবেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। গতকাল বঙ্গবন্ধু বিপিএলের এলিমিনেটরে ঢাকা প্লাটুনের হেরে যাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা এলো। দুদিন আগে বলেছেন- পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে জাতীয় দলে থাকার আশা তিনি আর করেন না। কিন্তু তার জায়গায় ভিন্ন কোনো অধিনায়কও তো বেছে নেয়নি বিসিবি। সুতরাং নির্বাচকরা চাইলেও তো তাকে বাদ দিয়ে সামনের ওয়ানডে দল করতে পারবেন না। তাহলে?

‘আমার কাছে মনে হয় না জাতীয় দলে আগে অধিনায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর দল নির্বাচন হবে। আমি তো আগের দিন পরিষ্কার বার্তা দিয়ে দিয়েছি যে নির্বাচকরা যা ভাববে তাই হবে’ একটি দম নিয়ে মাশরাফী বলেন, ‘বাংলাদেশে তো সবই হয়।’

বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্সের পরও শ্রীলঙ্কা সফরে মাশরাফী অধিনায়ক ছিলেন। চোটে পড়ায় যেতে পারেননি। পরিবর্তে তামিম ইকবাল নেতৃত্ব দেন দলকে। কিন্তু নিয়মিত অধিনায়ক যেহেতু মাশরাফী এবং বিসিবি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, তাই তাকে ওয়ানডে অধিনায়ক ধরেই নির্বাচকদের বাকি ১৪ জনকে বেছে নিতে হবে। এটাই নিয়ম। যেহেতু নিজে মানছেন পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দলে জায়গা পাওয়ার কথা না, আবার ঘটা করে বিদায় নেওয়ার পক্ষেও না মাশরাফী, তাহলে কি বিসিবি চাইলে দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন? ‘বিসিবি যদি বলে তাহলে এখনই অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেব। সমস্যা নেই।’ কিন্তু তার মনের ভেতর কী আছে তার? মাশরাফীর কাটা জবাব, ‘আমার সিদ্ধান্ত আমার কাছে থাক।’

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ১ উইকেট নেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু বিপিএল দিয়েই মাশরাফী মাঠে ফিরেছিলেন। ১৩ ম্যাচে নেতৃত্ব দিলেন। বল হাতে পেয়েছেন ৮ উইকেট। আগের দিন বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন বলেন, মাশরাফীকে এমন ঘটা করে বিদায় দিতে চান যা এদেশের কোনো ক্রিকেটার কখনো পাননি। ভবিষ্যতেও পাবে না। সেই সঙ্গে বলেছেন, মাশরাফী তো বিপিএল পর্যন্ত দেখতে চেয়েছিল, ‘ও যদি না চায় তাহলে তো করার কিছু নেই।’

এই কথাটা তুলে ধরলে মাশরাফী হেসে বলেন, ‘পাপন ভাই তো বলেই দিয়েছেন না নিলে কিছু করার নেই।’ এরপর পুরো জবাব দিতে গিয়ে কিছুটা বিরক্ত মাশরাফী বলতে শুরু করেন, ‘আমি তো আপনাদের বলেছি আমি খেলছি। মনে হয় আমার অতটুকু স্বাধীনতা তো আছে যে, আমি খেলতে চাই। কারও জোর করায় তো আমি আর কিছু করব না।’

বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ট্র্যাজেডি- কখন শেষ বলতে হয় তা বুঝতে পারেন না। এই দেশের কিংবদন্তিদের অনেকে তাই মাঠের বিদায় পাননি। ওটা টেনেই উদাহরণ দেন মাশরাফী, ‘বাংলাদেশে অনেক খেলোয়াড় আছে যারা মাঠ থেকে অবসরে যায়নি। হাবিবুল বাশার সুমন তো বাংলাদেশের হয়ে ক্রাইসিস মোমেন্ট সব সময় রান করেছেন। তিনিও মাঠে থেকে অবসরে যাননি।’ এর সঙ্গে তার সিদ্ধান্ত, ‘একটা সময় হয়তো ভাবতাম যে মাঠ থেকে (শেষ) করব কি করব না। এখন মনে হচ্ছে প্রয়োজন নেই।’

এই মাশরাফী অন্যরকম। বলেন ‘ক্রিকেট বোর্ডের কালকের দিন পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার ছিলাম। আজ থেকে আর নেই। ক্রিকেট বোর্ডকে আন্তরিক ধন্যবাদ আমার বিদায়ী ম্যাচ বা অবসরের বিষয়ে চিন্তা করার জন্য। আমি পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছি- আমার ইচ্ছা নেই। তবে যদি কখনো সুযোগ আসে তাহলে দেখা যাবে।’ এর সঙ্গে একটা ‘কিন্তু’ জুড়ে দিয়ে মাশরাফী বললেন, ‘আবার কার কাছ থেকে নেব সেটাও কথা। আমার কোনো ইচ্ছা নেই।’

ঢাকা লিগে খেলতে যতটা সম্ভব প্রস্তুতি নেবেন জানালেন। কিন্তু যে মাশরাফী ছাড়া কদিন আগে জাতীয় দল ভাবা যেত না তাকে আজ অবসরে পাঠাতে কত আয়োজন। বিয়োগান্ত এই বিষয়টা মেনে নিয়েছেন মাশরাফী নিজেও, ‘এটা তো সবার ক্ষেত্রেই হবে। আজ যারা সুপারস্টার আজ থেকে পাঁচ বছর পর তাদের সামনেও এরকম পরিস্থিতি আসতে পারে। এটাই জীবন। কথা হচ্ছে যে, কেউ হয়তো-বা খুব ভালো অবস্থায় চলে যেতে চায়। কেউ হয়তো বলছে খেলাটা উপভোগ করছি খেলি। জাতীয় দল বা অন্য কোথায়, সেটা যে যেভাবে দেখছে। আমি যা প্রত্যাশা করেছিলাম তাই হচ্ছে।’

তার মানে নিজের পরিকল্পনায় আঁকা ঠিক পথে ধরে চলেছেন মাশরাফী। অন্য কার কী মনে হলো তাতে কী আসে যায়!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত