রাজধানীবাসীর কাছে পরিচিত নাম মেরাদিয়া। শহরের ভেতরে গ্রাম্য পরিবেশের সঙ্গে গবাদিপশুর বিশাল হাট ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডটিকে পরিচিত করেছে। কিন্তু বাস্তবে অবহেলার আরেক নাম মেরাদিয়া। এখানকার বাসিন্দারা সব ধরনের নাগরিকসেবা থেকে বঞ্চিত। নেই হাইস্কুল ও খেলার মাঠ। বছরজুড়ে জলাবদ্ধতা, মশা, মাদক আর ধুলাবালিতে জর্জরিত। গ্যাস ও পানির সংকট লেগেই থাকে। মেরাদিয়ার রাস্তাগুলোর সঙ্গে খানাখন্দ শব্দটি এখন জুতসই, খোঁড়াখুঁড়িতে বেহালদশা। ওয়ার্ডের প্রধান রাস্তায় দীর্ঘদিন যান চলাচল বন্ধ। নির্বাচনের আগমুহূর্তে কিছু অংশে তড়িঘড়ি ঢালাইকাজ করা হলেও তা যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ, বনশ্রী আবাসিক এলাকার পরপরই ওয়ার্ডের রাস্তার কিছু অংশ ভালো। প্রধান সড়কটি সিপাহিবাগ বাজারের পর শুরু হয়ে ওয়ার্ডে ঢুকেছে। এর অর্ধেকের বেশি অংশে সংস্কারকাজ শুরু হলেও তা প্রায় ছয় মাস বন্ধ। যান চলাচল না করায় রাস্তার মাঝে ময়লার স্তূপ জমেছে। দুর্গন্ধে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। রাস্তার চৌধুরী বাড়ি মোড় থেকে বড়বাড়ি ও মধ্যপাড়া পর্যন্ত বসেছে অসংখ্য অবৈধ বাজার। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রোজার আগে রাস্তার খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছে। এখন কাজ বন্ধ। কিন্তু ধুলাবালিতে, বিশেষ করে শিশুদের খুবই অসুবিধা হচ্ছে। তারা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সঙ্গে জলাবদ্ধপ্রবণ এলাকা হওয়ায় বাসিন্দারা বর্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এরই মধ্যে সিটি নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ওয়ার্ডের অলিগলি ঘুরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কিন্তু ভোটারদের মধ্যে তেমন আগ্রহ নেই। তারা বলছেন, ২০১৫ সালে নির্বাচনের সময় গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রার্থীরা। কিন্তু পাঁচ বছরে কোনো উন্নয়নই হয়নি। মেরাদিয়ার বাসিন্দা মকবুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওয়ার্ডের বেশির ভাগ মানুষ স্থানীয়। অথচ সন্তানদের পড়ালেখার জন্য আজ পর্যন্ত একটা হাইস্কুল হয়নি। সারা বছরই পানি ও গ্যাসের সংকট থাকে। গত ১০ বছরে রাস্তাঘাটের কোনো উন্নয়ন হয়নি। ভোট এলে তোড়জোড় শুরু হয়। কিন্তু এমন ভোট দিয়ে আমাদের কী হবে?’
ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর মাকসুদ হোসেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ওয়ার্ডের সমস্যার বিষয়ে জানানো হলে তিনি ভোটে প্রচারণার ব্যস্ততা দেখিয়ে রেখে দেন। বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী হাজি আবুল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণের সবচেয়ে অবহেলিত ওয়ার্ড মেরাদিয়া। গত ১০ বছরে কোনো উন্নয়ন হয়নি। রাস্তায় চলা যায় না। অলিগলিতে মাদকের আড্ডা। নেই ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ ও কমিউনিটি সেন্টার। আমি নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানের সঙ্গে মাদকমুক্ত করে বাসিন্দাদের সামনে মডেল ওয়ার্ড উপহার দেব।’
