বিএনপির মহাসচিব পারলে আমি কেন নয় : কাদের

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:১৭ এএম

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রচার চালাতে পারলে তিনি কেন প্রচার চালাতে পারবেন না বলে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে তিনি এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললেও প্রচার-প্রচারণা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা মেনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন আমাদের যুক্তি খন্ডন করে বলেছেন, তাদের আচরণবিধিতে যা আছে সেটাই ফলো করার জন্য। আমার সেটা মেনে চলছি। আমাদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আগেও কোনো আপত্তি ছিলো না, এখনো নেই। আমরা শুধু যুক্তির প্রশ্নে এই কথাটি উত্থাপন করেছি।’

গতকাল সোমবার বিকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নটা আমরা করেছি কোনো কোনো গণতান্ত্রিক দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেই দেশের প্রধানমন্ত্রীও ক্যাম্পেইন করেন। ভারতের কর্নাটকের বিধানসভা নির্বাচন এবং এমনকি ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছি ক্যাম্পেইনে এসেছেন এবং বক্তব্য রেখেছেন। উন্নত কোনো গণতান্ত্রিক দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মন্ত্রীদের অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই। আমাদের এখানে কেন এটা হলো এই প্রশ্নটা আমরা করেছি। প্রতিবাদ করিনি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এমনকি ইভিএমের ব্যাপারে আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচন পরিচালনা করবেন ইসি। তারা যে ইলেকশন কন্ডাক্ট করবে সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ থাকবে না। সরকার কোনো ব্যাপারেই তাদের নির্দেশ দেবে না।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, নীতিগতভাবে আমরা ইভিএমের পক্ষে। আমরা আধুনিক প্রযুক্তিতে বিশ্বাস করি। এজন্য সহজে ভোট প্রদান, ভোট গণনা, আধুনিক পদ্ধতি অনেক সহজ। এটা পরীক্ষিত বিষয়। কাজেই আমরা এটার পক্ষে। যদি ইসি মনে করে ইভিএম সিস্টেম ছাড়া অতীতের মতো করবে এটাও তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরব আমিরাতে যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে হবে। আমরা চাই একটা ভালো নির্বাচন হোক। প্রশ্নবিদ্ধ বা বিতর্কিত নির্বাচন করতে চাই না। আমরা একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। প্রধানমন্ত্রী সেই নির্দেশনাই দিয়েছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়, তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও ভূমিকা থাকবে না। তখন নির্বাচন কমিশনের অধীনেই চলে যাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের দায়িত্ব পালন করবে।

বিএনপির প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের অভিযোগ তো আমাদের প্রার্থীও করেছে যে, নৌকার সমর্থকদের ওপর হামলা হয়েছে। তাদের গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে কর্মীকে মারধর করা হয়েছে পুরান ঢাকায়। এটা ইসির দায়িত্ব। কাজেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়ার মালিক হচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

সরস্বতী পূজার জন্য নির্বাচন পিছিয়ে নেওয়া না নেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে বলেও অপর এক প্রশ্নের জবাবে জানান ওবায়দুল কাদের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত