চুরির অপবাদে হাত-পা বেঁধে শিশুকে নির্যাতন

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:২৩ এএম

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গরু চুরির ‘অপবাদ দিয়ে’ রাফিকুল ইসলাম (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রকে হাত-পা বেঁধে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার সকালে ধুমাইটারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া শিশুটিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার রাফিকুল উত্তর ধুমাইটারী গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং ধুমাইটারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

মামলার এজাহার থেকে পাওয়া তথ্য ও এলাকাবাসী জানায়, উত্তর ধুমাইটারী গ্রামের নজরুল ইসলামের কাছে তার ভাতিজি জামাই আবদুর রহিম কিছু টাকা পেতেন। এ কারণে তিনি গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর নজরুল ইসলামের উপস্থিতিতে তার গোয়ালঘর থেকে একটি গরু নিয়ে যান। পরে পূর্ব শত্রুতার জেরে ওইদিনই রাতে গরু চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে রাফিকুল ইসলামকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় প্রতিবেশী ইয়াজল, ফজলু ও নাজমুল নামে তিন যুবক। তারা রাফিকুলকে ফজলুর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে বেদম মারধর করে। ওই তিন যুবক ১০ হাজার টাকা দাবি করলে তাদের ৩ হাজার টাকাও দেন রাফিকুলের স্বজনরা। কিন্তু তাকে না ছেড়ে পরদিন শনিবার সকালে স্থানীয় আফসার আলীর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে বেদম মারধর করা হয়। একপর্যায়ে রাফিকুল জ্ঞান হারালে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে রবিবার এই স্কুলছাত্রকে নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোড়ন তৈরি হয়।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একজন রাফিকুলকে উল্টো করে ধরে আছে। আরেকজন রাফিকুলের মাথা দুই পায়ের ফাঁকে আটকে দিয়ে পা দুটি ওপরের দিকে ধরে রাখে। পরে একজন একজন করে রাফিকুলের পায়ের তালুতে ও কোমরে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে। এ সময় শিশুটি আর্তচিৎকার করতে থাকে। তখন গ্রামের মানুষ চারদিকে গোল হয়ে বসে ছিল। কেউ রাফিকুলকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি, বরং তার দু-একজন আত্মীয়স্বজন এগিয়ে গেলে তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, ধুমাইটারী গ্রামের তনু প্রামাণিক, তাজু প্রামাণিক, তুহিন প্রামাণিক, লেলিন প্রামাণিক, সাবু প্রামাণিক ও মুসা প্রামাণিকসহ আরও অনেকেই রাফিকুলকে পর্যায়ক্রমে মারধর করে।

এ ঘটনায় রাফিকুলের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১২ জনকে আসামি করে গত রবিবার রাতে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। পরে ওইদিন রাতেই দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলো উত্তর ধুমাইটারী গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে আইজল মিয়া (৫০) এবং একই গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে রানা মিয়া (৩০)।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল্লাহিল জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনাটির তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত