মেঘনায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষে মা-ছেলে নিহত

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:২৫ এএম

বরিশাল-ঢাকা নৌপথের মেঘনা নদীতে এমভি কীর্তনখোলা-১০ ও এমভি ফারহান-৯ লঞ্চের সংঘর্ষে মা ও ছেলে নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৮ জন। গত রবিবার রাত ১টার দিকে নৌপথের চাঁদপুরসংলগ্ন মাঝ কাজীর চরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গাড়ুরিয়া ইউনিয়নের ভান্ডারিকাঠি গ্রামের রুবেল খানের স্ত্রী মাহমুদা বেগম (২৪) ও তার ছেলে মুমিন খান (৭)। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার বিকেলে পিরোজপুর থেকে এমভি ফারহানের মাস্টার আফতাব আলী ও সুকানি আবদুল হামিদকে আটক এবং লঞ্চটি জব্দ করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের পরিচালক আজমল হুদা সরকার মিঠু জানিয়েছেন, সংস্থাটির বন্দর ও পরিবহন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সাইফুল ইসলামকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। তাদের ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কীর্তনখোলার যাত্রী ফয়সাল জানান, রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে লঞ্চটি কেঁপে ওঠে। সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু কুয়াশার কারণে কোনো কিছু বোঝা যাচ্ছিল না।

দুর্ঘটনার জন্য এমভি ফারহানকে দায়ী করে কীর্তনখোলার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. বেল্লাল হোসেন জানান, রবিবার রাতে বরিশাল থেকে যাত্রী নিয়ে তাদের লঞ্চ ঢাকা যাচ্ছিল। মাঝ কাজীর চর অতিক্রমকালে বারবার সিগন্যাল দেওয়ার পর ঢাকা থেকে ভান্ডারিয়াগামী এমভি ফারহান আমাদের লঞ্চের ডানপাশের মাঝ বরাবর ধাক্কা দেয়। এতে দ্বিতীয় তলার ডেকে থাকা মা-ছেলের মৃত্যু হয়। পরে লঞ্চটি চাঁদপুর নদীবন্দরে ভিড়িয়ে আহত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এমভি ফারহানের মাস্টার মামুনুর রশীদ রওশন জানান, সরু চ্যানেল ও ডুবোচরের কারণে ওই এলাকায় আগেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘন কুয়াশায় খুবই সমস্যা হয়। কীর্তনখোলার আঘাতে আমাদের লঞ্চের আহত পাঁচ যাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান জানান, বিআইডব্লিউটিএর নির্দেশনা পেয়ে এমভি ফারহান বিকেল ৪টার দিকে পিরোজপুর হুলারহাট নৌবন্দরে পৌঁছালে মাস্টার ও সুকানিকে আটক এবং লঞ্চটি হেফাজতে নেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত