সংবাদ সম্মেলনে কোচ জেমি ডে’র কাছে প্রশ্ন ছিল সাম্প্রতিক সময়ে তার দলের প্রধান স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবনের অনুপস্থিতি নিয়ে। অসুস্থতার কারণে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ক্যাম্পেই যোগ দিতে পারেননি গত মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলের ফর্মের তুঙ্গে থাকা এই স্ট্রাইকার। জাতীয় দলের জার্সিতে অবশ্য ঘরোয়া ফুটবলের ফর্মটা নিয়ে আসতে পারেননি আবাহনীর এই স্ট্রাইকার। তারপরও জেমি ডে’র প্রথম পছন্দ ছিলেন জীবন। সেই জীবন দলে না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কোচের পরবর্তী পছন্দ কে হবেন। বিষয়টা রহস্যই রেখে দিলেন কোচ। নাম নিয়েছেন ৩ জনের- সাদউদ্দিন, মাহবুবুর রহমান সুফিল এবং মতিন মিয়া। আজ ফিলিস্তিন-পরীক্ষায় এদের একজনকে দেখা যেতে পারে স্ট্রাইকিং পজিশনে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর জেমি ডে একটা দর্শনই শিখিয়েছেন শিষ্যদের আগে ঘর সামলাও, পরে আক্রমণে যাও। প্রতিআক্রমণ-নির্ভর কৌশলে শিষ্যদের ভালোভাবেই ধাতস্থ করে তুলেছেন কোচ। এর বিকল্পও ছিল না তার সামনে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে প্রবল প্রতিপক্ষদের (সবাই র্যাংকিংয়ে অনেক এগিয়ে) বিপক্ষে আর যাই হোক, আক্রমণাত্মক কৌশলে খেলা বাংলাদেশের অলীক কল্পনা। কাউন্টার অ্যাটাক-নির্ভর খেলার নেতিবাচক ফল অবশ্য বাংলাদেশ পেয়েছে ২০১৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১৯ এসএ গেমসে। আক্রমণাত্মক কৌশল ভুলতে বসেছিল বলেই আয়োজক হয়েও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিতে হয় বাংলাদেশকে। আর গেল ডিসেম্বরে এসএ গেমসে এই গোল করতে না পারার খেসারত দিয়ে তাদের বিদায় নিতে হয়েছে ফাইনালের আগেই।
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের প্রস্তুতির শুরুতেই তাই গোল নিয়ে গোলমালের কথা নিজে থেকেই বলেছিলেন জেমি ডে। তখন বলেছিলেন, ‘সুযোগ যে ছেলেরা তৈরি করতে পারে না, তা নয়। কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে গেলেই যত গন্ড গোল। তাই এই গোল নিয়ে কাজ হবে কিছুদিন।’ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম ও দ্বিতীয়পর্ব মিলিয়ে ছয় ম্যাচে বাংলাদেশ গোল করেছে মোটে তিনটি। আর হজম করেছে আটটি। এ সব ম্যাচে আক্রমণের মূল দায়িত্বে ছিলেন জীবন। বারবার হতাশ করলেও তার ওপর আস্থা রেখেছিলেন কোচ। জীবনকে না পাওয়ায় কোচকে ভাবনায় পরিবর্তন আনতে হবে আজ থেকে। তার ভাবনায় থাকা সুফিল অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন দলের প্রয়োজনে যে কোনো পজিশনে খেলতে প্রস্তুত তিনি, ‘আমাদের পারফরমেন্স সবারই একই রকম। কোচই সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে কোন পজিশনে খেলাবেন। আমি আছি এছাড়া সাদ ও মতিন আছে। সবাই প্রস্তুত আছি। গত কয়েকদিনে আমাদের তিনজনকে দুই উইং এবং নাম্বার নাইন পজিশনে খেলাচ্ছেন কোচ। কখনো আমাকে নাম্বার নাইন খেলালে, মতিনকে রাইট উইং-এ খেলাচ্ছেন। আসলে আমরা সবাই সব পজিশনে খেলে অভ্যস্ত।’ জীবনের না থাকাটা একদিক দিয়ে তাদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবেও মনে করেন সুফিল, ‘জীবন ভাই না থাকাটা আমাদের জন্য বড় সুযোগ। চেষ্টা করব নিজেদের সেরাটা দিতে।’ গোল না করার ব্যামোর একটা ব্যাখ্যাও নিজের মতো করে দিলেন সুফিল, ‘এ ক’দিন গোল নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে। কোন অ্যাঙ্গেল থেকে কীভাবে মারলে গোল হবে, কতটা কনফিডেন্স নিয়ে শট নিতে হবে, এসব আর কি। বাইরের স্ট্রাইকাররা দ্রুত নিতে পারে। আমরা হয়তো সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করি। আর তাড়াহুড়ো করে ফেলি। এগুলো বড় সমস্যা আমাদের।’
সাদউদ্দিন বললেন জীবনের শূন্যতা পূরণে তিনি প্রস্তুত, ‘কোচ আমাকে নাম্বার নাইন এবং উইং-এ পরখ করেছেন। ফিলিস্তিনের বিপক্ষে যে কোনো পজিশনেই আমি নামতে প্রস্তুত আছি। এ ছাড়া সুফিল ও মতিন আছে। কোচ যে কাউকেই যে কোনো পজিশনে খেলাতে পারেন। সুযোগ পেলে গোল করব।’
২৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাত্র চার গোল করা জীবনের জায়গায় আজ তাই দেখা যাবে নতুন কাউকে। নতুনের আগমনে গোলখরা কাটবে- সমর্থকদের প্রত্যাশা এটাই।
