অনেক নাটকীয়তার পর দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলে সমঝোতায় এলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানে টেস্টও খেলবে বাংলাদেশ। তবে সফর হবে ভেঙে ভেঙে, ৩ দফায়, জানুয়ারি থেকে এপ্রিলে। তিনটি টি- টোয়েন্টি ও দুই টেস্টের সঙ্গে যোগ হয়েছে একটি ওয়ানডে।
একসঙ্গে সিরিজ আয়োজনের জায়গা থেকে সরে আসায় গতকাল পিসিবিকে ধন্যবাদ দিয়েছেন বিসিবিপ্রধান নাজমুল হাসান পাপন। জানান, ‘আমার অবস্থান বোঝা এবং মেনে নেওয়ার জন্য পিসিবিকে ধন্যবাদ দিতে চাই। আমরা খুবই খুশি যে সমঝোতার মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেছে। এই সিদ্ধান্ত এটাই প্রমাণ করে যে, আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম সময়মতো হওয়ার জন্য আমরা কঠোর চেষ্টা করেছি।’
গতকাল পিসিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মঙ্গলবার দুবাইয়ে আইসিসি চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহরের মধ্যস্থতায় বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন ও পিসিবি চেয়ারম্যান এহসান মানি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। এর আগে গত রবিবার নাজমুল হাসান বোর্ড মিটিং শেষে জানিয়েছিলেন, সরকারের কাছ থেকে কেবল টি-টোয়েন্টি সিরিজ সফরের অনুমতি পেয়েছে বিসিবি। সরকারের নির্দেশনার বাইরে যাওয়া সম্ভব না।
আসলে তিন দফায় ভেঙে ভেঙে সংক্ষিপ্ত সফরই হচ্ছে শেষ পর্যন্ত। পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী ২৪, ২৫ ও ২৭ জানুয়ারি লাহোরে পাকিস্তানের সঙ্গে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এরপর তারা আবার পাকিস্তানে ফিরে ৭ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাওয়ালপিন্ডিতে আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নির্ধারিত দুই টেস্টের প্রথমটি খেলবে। মাঝে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ মার্চ পাকিস্তান সুপার লিগ আয়োজিত হবে। পিএসএল শেষ হলে আবার পাকিস্তানে যাবে বাংলাদেশ। তখন করাচিতে ৩ এপ্রিল একটি ওয়ানডে খেলবে। একই ভেন্যুতে টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি হবে ৫ থেকে ৯ এপ্রিল।
গতকাল দুপুরে দুবাইয়ে এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পর পিসিবির চেয়ারম্যান এহসান মানি নির্ভার চিত্তে বলেছেন, ‘খুব ভালো লাগছে এই সমঝোতায় আসতে পেরে। এই সমাধানটা আসলে খেলাটার বৃহত্তর স্বার্থে এবং দুটি গর্বিত ক্রিকেট জাতির ভালোর জন্য। ধন্যবাদ আইসিসির চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহরকে।’ সেখানে উপস্থিত পিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিম খান বলেছেন, ‘দুই বোর্ডের জন্যই এটা উইন-উইন ফলাফল। ভালো লাগছে যে সিরিজের ওপর ঝুলতে থাকা অনিশ্চয়তা সরে গেল। এখন আমরা ম্যাচগুলো সাবলীলভাবে অনুষ্ঠিত করার দিকে মন দিতে পারব। বাংলাদেশ পাকিস্তানে তিনবার সফর করবে। অন্য যে কোনো ক্রিকেট খেলিয়ে দেশের মতো পাকিস্তানেও তাদের নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত অনুভূতি পাওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘এভাবে তিনভাগে সফর ভাগ হওয়ায় দর্শক-সমর্থকরা সরাসরি খেলা দেখার সঙ্গে নিজেদের ফেভারিট খেলোয়াড় ও দুই দলকে ভালো ক্রিকেট খেলতে উৎসাহ জোগাতে পারবেন।’ রাতে বিসিবির পক্ষ থেকেও সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
