ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির অভিযোগে ৬৩ এবং মাদক ও অস্ত্র সংশ্লিষ্টতায় চার শিক্ষার্থীসহ মোট ৬৭ জনকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি। এছাড়া ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১৩ জনকে সাময়িক এবং সাংবাদিক মারধরের ঘটনায় দুজনকে ছয় মাস বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদের সভায় এ সুপারিশ করা হয় বলে প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন। ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে শহীদুল্লাহ হল থেকে ছাত্রলীগের গত কমিটির কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন রানা ও আবদুল্লাহ আল মামুন নামে দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরদিন তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় আইসিটি আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় গত বছরের ২৩ জুন ১২৫ জনকে আসামি করে চার্জশিট দেয় সিআইডি। আসামিদের মধ্যে ৮৭ জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তখন ঘটনায় জড়িত ১৫ জনকে আজীবন বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। বাকিদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। নোটিসের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় শৃঙ্খলা পরিষদের বৈঠকে ৬৩ জনকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আর বাকি ৯ জনকে কেন বহিষ্কার করা হবে না এই মর্মে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো জালিয়াতের স্থান নেই। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার প্রশ্ন। কিছুদিন আগে অস্ত্র ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের চার শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করে হল প্রশাসন এবং অধিকতর শাস্তির সুপারিশ করে ডিবিতে পাঠায়। তাদের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ হওয়ায় আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের আগামী সভায় ওই ৬৭ জনকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি পাওয়া ১৫ জনের বিষয়টিও ওই দিনের সভায় তোলা হবে।
