বিভিন্ন কৌশলে প্রচারে বাধার অভিযোগ তাবিথের

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২০, ০২:১৩ এএম

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম যানজটমুক্ত নগরী গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারের ষষ্ঠ দিন গতকাল বুধবার এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই দিন বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল প্রতিদিনই নানা পদ্ধতিতে তার প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

গতকাল ফার্মগেটের আল রাজী হাসপাতালের সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করেন আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আতিকুল। গণসংযোগের শুরুতেই সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের চ্যালেঞ্জ আছে অনেক। কিন্তু আপনাদের নিয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সুন্দর ঢাকা শহর গড়ে তুলব। প্রথমেই ঢাকা শহরে যানজটমুক্ত করার উদ্যোগ নেব। বাস-মালিকদের সঙ্গে বসে বাস রুট রেশনালাইজেশনের কাজ করতে চাই।’ আতিকুল বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলব। নৌকা প্রতীক মানে উন্নয়নের প্রতীক। উন্নয়ন চলছে, চলবে। আর এজন্য নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে আপনাদের। ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা আমাদের আরেকটি চ্যালেঞ্জ। জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আশা করছি, পর্যাক্রমে ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন করতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘নৌকার কোনো ব্যাক গিয়ার নেই, নৌকার গিয়ার শুধু উন্নয়নের গিয়ার। আশা করছি একটি সুন্দর নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে নৌকাকে নির্বাচিত করবেন।’

আতিকুল ইসলাম এদিন ফার্মগেট, তেজগাঁও, বেগুনবাড়ী, নাবিস্কো এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তার সঙ্গে স্থানীয় জনগণ এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছিলেন।

উত্তরে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ গতকাল সকালে উত্তর বাড্ডা রহমাতুল্লাহ গার্মেন্টসের সামনে থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ষষ্ঠ দিনের মতো প্রচার শুরু করেন। বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের পাশাপাশি বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে ছিলেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি মেয়রপ্রার্থীর পক্ষে ভোট ও দোয়া চান।

তাবিথ এ সময় সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিন নানা পদ্ধতিতে তার প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতদিন দলের কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হতো। এখন মাইক কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। পোস্টার না লাগাতে হুমকিধমকি দেওয়া হচ্ছে। হামলা করা হচ্ছে। অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রচারে আর ১২ দিন বাকি আছে। এ সময় যেন সব প্রার্থী সমানভাবে প্রচার চালাতে পারে সে ব্যবস্থা করবেন। তাবিথ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘মেয়র হলে বাড্ডা এলাকার জলাবদ্ধতা ও সরু এলাকায় যানজট নিরসনে কাজ করব। নারী-শিশুসহ সবার নিরাপত্তায় কাজ করব। খোলা জায়গায় হাঁটার ব্যবস্থা করা হবে।’

পরে তিনি পশ্চিম পদরদিয়া, পূর্ব পদরদিয়া হয়ে সাঁতারকুল, ইসলামবাগ ও মগাইরে গণসংযোগ করেন। মগাইর বাজারে তাবিথ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আগামী ৩০ জানুয়ারি হবে আমাদের জীবনবাজির লড়াই। আপনারা কোনো ভয়ভীতি না পেয়ে, মনের বিশ্বাস ও আমাদের ঐক্য একসঙ্গে করে ৩০ জানুয়ারি আমাদের বিজয়ী করবেন।’

বাড্ডার ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ঘুড়ি প্রতীকে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নবী হোসেন, আইয়ুব আনসার মিন্টু ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী আসনে আনারস প্রতীকের প্রার্থী সালেহা ইসলামকে ভোট দিতে অনুরোধ করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, যারা আপনাদের অধিকার রক্ষা করবেন, আপনাদের গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবেন; তাদের বিজয়ী করার লক্ষ্যে আপনারা অবশ্যই আনারস মার্কা, ঘুড়ি মার্কা, কারাবন্দি খালেদা জিয়ার ধানের শীষ মার্কাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন। উত্তর বাড্ডার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে প্রগতি সরণির যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো ‘নাজুক’ মন্তব্য করে মেয়র নির্বাচিত হলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দেন তাবিথ।

এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি এই এলাকার মানুষ ঢাকার অংশ হয়েও দীর্ঘদিন সিটি করপোরেশনের সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। আমরা আপনাদের বঞ্চিত হতে দেব না, বঞ্চিত থাকতেও দেব না। আগামী দিনগুলোতে আপনাদের অধিকার রক্ষা করা ও বাস্তবায়ন করা হবে আমার দায়িত্ব।’ এ সময় উত্তর বাড্ডা এলাকায় মশা নিধন ও শিশুদের খেলার মাঠ করার প্রতিশ্রুতিও দেন বিএনপির মেয়রপ্রার্থী।

নির্বাচনী প্রচারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আতিকুল ইসলামের ‘চা দোকানি সাজার’ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তাবিথ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার প্রতিপক্ষ তার নির্বাচনী প্রচার যেভাবে পারেন, করবেন। এ ব্যাপারে আমি কিছু বলব না।’ তবে তাবিথ আউয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে তার পেজে পোস্ট করা একটি ছবি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। ওই ছবিকে নিয়ে অনেকে বলছেন তিনি ‘বাস কন্ডাক্টর সেজেছিলেন’। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখবেন, ২০১৫ সালে নির্বাচনী প্রচারের ওই ছবিতে আমি বাসের জানালার বাইরে গণসংযোগের জন্য দাঁড়িয়েছিলাম। সেখানে বাসের কন্ডাক্টর সাজার কোনো চেষ্টা ছিল না। এটাকে নিয়ে এখন অপব্যবহার করা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত