হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সরস্বতী পূজার দিন ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন স্থগিত করে অন্য কোনো দিন করার দাবিতে ফের শাহবাগ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে শিক্ষার্থীরা নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে শাহবাগে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পরে সেখানেই সড়ক অবরোধ করে দেড় ঘণ্টা অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে অবরোধকালে এক ব্যক্তি রাস্তা ছেড়ে দিতে বলে এক শিক্ষার্থীর দিকে পিস্তল তাক করলে বিক্ষোভকারীরা তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছে। পরে শাহবাগ থানা পুলিশ আলিফ (৩৬) নামে ওই ব্যবসায়ীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইসি কার্যালয়ের দিকে এগোতে চাইলে শাহবাগ মোড়ে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়টি অবরোধ করে প্রায় দেড় ঘণ্টা বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় আশপাশের রাস্তাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ।
এদিকে ওই অবরোধে পড়ে ব্যবসায়ী আলিফ তার লাইসেন্সকৃত পিস্তল এক আন্দোলনকারীর দিকে তাক করে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। পরে শাহবাগ থানা পুলিশ তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলি জব্দ করেছে পুলিশ। আলিফ মতিঝিলে গোল্ড অ্যান্ড ট্রাভেলস নামে জনশক্তি রপ্তানিকারক একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক।
শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান জানান, নির্বাচন পেছানোর দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে সমাবেশ করছিল আন্দোলনকারীরা। বিকেল পৌনে ৩টার দিকে প্রাইভেটকারে মতিঝিলে অফিসে যাওয়ার পথে শাহবাগ মোড়ে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পড়েন ব্যবসায়ী আলিফ। আলিফ গাড়ি থেকে নেমে আন্দোলনকারীদের কাছে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে তার কাছে থাকা লাইসেন্সকৃত পিস্তল বের করে গুলি করতে উদ্যত হন। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা তাকে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
ওসি জানান, তাকে আপাতত আটক রাখা হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র অপব্যবহারের অভিযোগ আনার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
