সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে দেরি করে পাসপোর্ট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। ফলে সহসাই কাটছে না পাসপোর্ট-সংকট। গত মঙ্গলবার অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে সহকারী পরিচালক শাহজাহান কবির এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা দেন।
আদেশে বলা হয়েছে, ‘সম্প্রতি টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে পার্সোনালাইজেশন সেন্টারে পাসপোর্ট প্রিন্টিং বিলম্ব হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস/বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস থেকে সাধারণ (রেগুলার) আবেদনগুলো দ্রুত সময়ে অ্যাপ্রুভাল দিয়ে প্রিন্টের জন্য প্রেরণ করা হচ্ছে। এতে অতি জরুরি (এক্সপ্রেস) আবেদনের পাশাপাশি সাধারণ (রেগুলার) আবেদনগুলো জমা হয়ে কিউ বা সিরিয়ালে অনিষ্পন্ন থেকে যাচ্ছে এবং শিডিউল মেশিন (কম্পিউটার) বারবার অকেজো (হ্যাং) হয়ে পড়ছে। ফলে জরুরি এক্সপ্রেস ও ইমার্জেন্সি পাসপোর্ট সময়মতো প্রিন্ট করা সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায় পুনরায় আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাধারণ (রেগুলার) আবেদনগুলো এনরোলমেন্টের তারিখ (আবেদন করার তারিখ) থেকে ৩০ দিন পর অ্যাপ্রুভাল প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশন ও সব ঠিক থাকলে আবেদনকারীরা ১৮-২০ দিনের মধ্যে পাসপোর্টের অ্যাপ্রুভাল পেয়ে যান। সে ক্ষেত্রে ২১ কার্যদিবসের পরবর্তী সময়ে ছুটির দিন ব্যতীত ২২ কার্যদিবসের দিন পাসপোর্ট প্রদানের (ডেলিভারি) তারিখ দেওয়া হয়। তবে ৩০ দিনের আগে অ্যাপ্রুভাল না দেওয়ার সিদ্ধান্তে দুই মাসের মধ্যেও একজন আবেদনকারী পাসপোর্ট পাবেন কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
নতুন পাসপোর্ট সময়মতো না পেয়ে অনেকে বিপাকে আছেন। অনেকের ভিসা, টিকিট নষ্ট হচ্ছে। এজন্য শিক্ষার্থী ও রোগীরাও সমস্যায় পড়েছেন। আঞ্চলিক অফিসগুলোতে পাসপোর্টের জন্য ধরনা দিতে দিতে সেখান থেকে পাসপোর্ট গ্রহীতাদের ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। ঢাকার আগারগাঁওয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পাসপোর্ট পেতে ভিড় করছেন।
