পাউবোর ইজারা দেওয়া জমি দখল করে শুঁটকি মহাল

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ০১:২৫ এএম

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) থেকে ইজারা দেওয়া ১৬ একর জমি জোরপূর্বক দখল নিয়ে শুঁটকি মহাল করার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এর ফলে পাউবোর প্রকৃত ইজারাদার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এছাড়া তাকে কয়েক বছর ধরে মিথ্যা মামলা দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করছে দখলদাররা।

পাউবো কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুবদিয়া উপজেলায় ৮নং খতিয়ানের বড়ঘোপ মৌজার বিএস ৪৭৬৩ নং দাগের ১৬ একর জমি ২০১৬ সালের ৩১ জুলাই উপজেলার কৈয়ারবিল পরান সিকদারপাড়া গ্রামের মৃত ডা. জাবের আহমদ চৌধুরীর ছেলে ও মানবাধিকার কমিশন উপজেলা শাখার সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী মুকুলকে ইজারা দেওয়া হয়। পরে ওই জমি তাকে বুঝিয়েও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জমি বুঝিয়ে দেওয়া হলেও প্রভাবশালীদের বাধার মুখে তিনি এখনো তা ভোগদখল করতে পারেননি।

অভিযোগ রয়েছে, ইজারা গ্রহণের পর বড়ঘোপ ইউনিয়নের ফতেয়ারপাড়া গ্রামের মৃত জাফর আহমদের ছেলে মো. ইকবালের নেতৃত্বে ৪৫ জন ওই ইজারাকৃত জমি জবরদখল করে। প্রকৃত ইজারাদার মুকুলকে ওই জমিতে যেতে দেওয়া হয়নি। উল্টো তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। জানা যায়, এ নিয়ে ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মুকুল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইকবালকে প্রধান আসামি করে ওই ৪৫ জনের বিরুদ্ধে একটি এমআর মামলা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পাউবোর কাছে প্রতিবেদন চায়। পাউবো কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান ওই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর প্রতিবেদন পাঠান। এতে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালের ৩ মে সমন্বিত মৎস্য চাষ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এবং কক্সবাজার ইজারা দান কমিটির সভায় ১৬ একর জমি ইজারা পাওয়ার জন্য মুকুল আবেদন করেছিলেন। আবেদন ইজারাদান কমিটির সভায় উপস্থাপিত করা হলে উপস্থিত সদস্যরা পর্যালোচনা করে ধার্যকৃত রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে পাউবোর জমি তাকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইজারা কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়।

মুকুল বলেন, ‘পাউবোর থেকে ১৬ একর জমি সরকারি নিয়ম অনুসারে ইজারা নিই। কিন্তু ইজারার পর থেকে ইকবাল গং জমি জবর দখল করে নেয় এবং সাত-আটটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। অবৈধভাবে দখল করা জমিতে তারা শুঁটকি মহাল তৈরি করে এলাকার পরিবেশ মারাত্মক দূষিত করছে।’ এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ইকবাল গং বলেন, ‘মুকুলের ইজারার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। এ জমি আমাদের।’ তবে তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

পাউবো কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, ‘ইজারাকৃত জমি জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে পাউবোর পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত