অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক

ব্যারিস্টার ইমনের ৯০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ!

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:২০ এএম

জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের সাবেক পরিচালক ও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমনের বিরুদ্ধে পাওয়া ৯০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইমনকে গত বুধবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন দুদকের উপপরিচালক মো. নুরুল হুদা।তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যারিস্টার ইমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, তিনি প্রতিপক্ষের নোংরা রাজনীতির শিকার।

ইমনের বিরুদ্ধে দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি সরকারি দলের পদবি ব্যবহার করে সুনামগঞ্জ শহরে বিলাসবহুল বাড়ি, রাজধানীর ধানমণ্ডিতে ফ্ল্যাট, ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ এফডিআরসহ নামে-বেনামে ৯০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। এছাড়া তিনি পাওয়ার গ্রিডের পরিচালক হিসেবে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন ও সুনামগঞ্জে বিদ্যুতের সাবস্টেশন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা নুরুল হুদা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সূত্র থেকে কিছু তথ্য পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগে তো অনেক কিছুই লেখা হয়। কিন্তু তার সঙ্গে বাস্তবতা কতটুকু সেটাই এখন দেখার বিষয়।’

গত ৬ জানুয়ারি দুদক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ব্যারিস্টার ইমনকে চিঠি পাঠায়। তাকে নিজের ও স্ত্রী, পুত্র, কন্যাসহ তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের (যদি থাকে) ফটোকপি সঙ্গে আনতে বলা হয়। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো চিঠিতে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির জন্য বিদ্যুৎ সাবস্টেশন নির্মাণ প্রকল্পের অনুকূলে আরজ আলীর জমির হুকুম-দখল বিষয়ক নথিপত্র চাওয়া হয়। এ বিষয়ে আরও কোনো রেকর্ড ও নথি থাকলে তাও দিতে অনুরোধ জানায় দুদক।

এ অনুসন্ধান তদারকি করছেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সংক্ষিপ্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেটা কমিশন আমলে নিয়ে অনুসন্ধানের জন্য নির্দেশ দিয়েছে। আমরা তার কাছে কিছু নথিপত্র চেয়েছি। পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে নথিপত্র চেয়ে চিঠি দিয়েছি।’

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি আসলে প্রতিপক্ষের নোংরা রাজনীতির শিকার। আমি ও আমার স্ত্রী দুজনই ব্যারিস্টার। তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে দুদকে বেনামি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়েছে। আমি ওই চক্রের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও করেছি। আমি এলাকার জনসাধারণের বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানের জন্য একটি সাবস্টেশন নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করি। সরকারি নিয়মে সেটার জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তাতে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। আরজ আলী যেহেতু আমার এলাকার বাসিন্দা তিনি আমার আত্মীয় হতেই পারেন। কিন্তু সেখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।’ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানিতে অবৈতনিক স্বাধীন পরিচালক ছিলেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ভিত্তিহীন।’ 

দুদকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ব্যারিস্টার ইমনের অধিকাংশ আত্মীয়-স্বজন লন্ডনে থাকেন। তিনি দেশে দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ লন্ডনে পাচার করেছেন কি না, এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকার ফ্ল্যাট, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও আয়কর তথ্য যাচাই-বাছাই করছে দুদক। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), রাজউক, সিটি করপোরেশন, সুমানগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত