ভোজ্যতেলের দাম নিয়ন্ত্রণে ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোর সরকারি আশ্বাসে গত সপ্তাহে পাইকারিতে পণ্যটির দাম লিটারপ্রতি ৭ টাকা কমেছে। তবে একই সময়ে খুচরা বাজারে বেড়েছে ৩-৪ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও সপ্তাহ ব্যবধানে ৫ টাকা বেড়েছে। পাইকারি আড়তদাররা খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম বাড়ার যৌক্তিকতা না দেখলেও খুচরা বাজারে বাড়ার পেছনে বোতলজাত সয়াবিনের দাম বৃদ্ধিকে দুষছেন।
এদিকে ভয়াবহ দাবানলের প্রভাবে অস্ট্রেলিয়া রপ্তানি কমিয়ে দেওয়ায় দেশীয় বাজারে সপ্তাহ ব্যবধানে সব ধরনের ডালের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে মসুর কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। সামনে ডালের দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও চাল, আটা, চিনি, সবজি ও মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যে, সপ্তাহ ব্যবধানে লিটারপ্রতি খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে ৩ টাকা, বোতলজাত সয়াবিনের দাম বেড়েছে ৫ টাকা, ৫ লিটার বোতলে দাম বেড়েছে ৫ টাকা, খোলা পাম অয়েলের দাম বেড়েছে লিটারপ্রতি ৩ টাকা এবং পাম অয়েল সুপারের দাম বেড়েছে লিটারপ্রতি ৫ টাকা। প্রতি কেজি মসুরের দাম বেড়েছে ১০ টাকা, আমদানি ডালে ১০ টাকা ও ছোলায় ৫ টাকা।
পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারকেন্দ্রিক তেল ব্যবসায়ী ও ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা দেশ রূপান্তরকে জানান, বোতলজাত সয়াবিনের দাম মিল মালিকরা পরিবেশকদের মাধ্যমে বাড়িয়েছে। কিন্তু আমাদের পাইকারি পর্যায়ে খোলা তেলের দাম ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। প্রতি মণ তেল ৩ হাজার ৪০০ টাকার পরিবর্তে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ১২০ টাকায়। লিটারে ৭ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবে। সেই আশ্বাসেই আমরা দাম কমিয়েছি। ফলে খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিনের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে জানান তিনি।
এদিকে ভয়াবহ দাবানলে অস্ট্রেলিয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এরপর থেকে দেশটি ডাল রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। এ জন্য সপ্তাহ ব্যবধানে পাইকারিতে প্রতি কেজি মসুরের দাম ৫-১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা বাজারে বেড়েছে ১৫ টাকা। আমদানিকারকরা বলছেন, বর্তমানে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে মসুর ডাল আমদানি করা হয়। তুলনামূলক কাছে হওয়ায় বেশির ভাগই ডাল আসে অস্ট্রেলিয়া থেকে। গত সেপ্টেম্বর থেকে দাবানলে ডালক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ডালের অনেক গুদামও পুড়ে যায়। বছরে বাংলাদেশের মসুর ডালের চাহিদা ৫ লাখ টনের মতো। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২ লাখ ৬১ হাজার টন মসুর ডাল আমদানি হয়েছে। বাকি ২ লাখ ৫১ হাজার টন অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এসেছে। ডালের দাম বাড়ার বিষয়ে চকবাজার ডাইলপট্টির ব্যবসায়ী দীপংকর সমাদ্দার বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া এখন ডাল রপ্তানি করছে না বললেই চলে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দাম আরও বাড়বে।’
সপ্তাহ ব্যবধানে কিছুটা কমেছে পেঁয়াজের দাম। গতকাল শুক্রবার কেজিপ্রতি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৪০ টাকা, আমদানি পেঁয়াজ ৮৫-১২০ টাকা। অব্যাহত আছে টিসিবির খোলা বাজারে ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি। আগের দামেই আছে চিনি। আমদানিকারকরা বলছেন, সরকার ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোর ঘোষণা দিলে পণ্যটির দাম কমে আসবে। অপরিবর্তিত আছে চাল ও আটার দাম।
বাজারে আগের দরেই সবজি ও মাছ মিলছে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, শিমের কেজি ৫০-৬০, বেগুন ৪০-৬০, শালগম ৪০, মুলা ৩০, গাজর ৪০-৫০, পেঁপে ৩০, বরবটি ৪০-৫০, উচ্ছে ৮০-১০০, করলা ৮০, টমেটো ৫০, কাঁচা মরিচ ৪০-৫০ ও নতুন আলু ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া বাঁধাকপি-ফুলকপি প্রতিটি ৪০-৫০, মিষ্টিকুমড়া ও লাউ ৪০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। পুঁইশাক প্রতি আঁটি ২০, লাউ শাক ২০-৩০, কুমড়াশাক ২০-২৫, পালং ও লালশাক ১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বাজারে ছোট আকারের রুই, কাতল, মৃগেল কেজিপ্রতি ২০০-২৩০ টাকা, বড় আকারের রুই, কাতল, মৃগেল ৩০০-৪০০, পাঙাশ ১৪০, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০, হাইব্রিড কই ২০০-২২০, পাবদা ও বাগদা চিংড়ি ৫০০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া দেশি কই ৪০০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
