বাংলাদেশ বিজ্ঞানীর দেশ: মোবারক আহমদ খান

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:৪৩ পিএম

বাংলাদেশ শুধু কবির বা গানের নয় বিজ্ঞানেরও দেশ বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমদ খান।

তিনি বলেন, বিজ্ঞাান চর্চায় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সত্যি। তবে বর্তমান সময়ে যথেষ্ট সুযোগও রয়েছে। বিজ্ঞানীরা যখন কাজ শুরু করে, তখন সবাই পাগল বলে। যখন সফল হয়, বাহ বাহ দেয়।

রবিবার ঢাকা কলেজে খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্য এমনটাই বলেন মোবারক আহমদ খান। 

রবিবার বিকেল ৪টায় ঢাকা কলেজের শহীদ আ ন ম নজীব উদ্দিন খুররম অডিটোরিয়ামে ঢাকা কলেজ বিজ্ঞান ক্লাব আয়োজিত ৭ম জাতীয় বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে আমরা সবাই বলি কবির দেশ, গানের দেশ, ভাটিয়ালি দেশ, কেউ বলে না বাংলাদেশ বিজ্ঞানীদের দেশ। আজকে আমি একটা স্লোগান সবাইকে বলে দিচ্ছি, সেটা হলো বাংলাদেশ বিজ্ঞানীর দেশ।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যাদের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর তাদের বলা হয় তরুণ বিজ্ঞানী। তোমরা তরুণ।  আমরা তোমাদের মধ্যে স্বপ্ন দেখি। পৃথিবীতে বড় বড় বিজ্ঞানীরা যত বড় বড় থিওরি দিয়েছেন তারা তরুণ  ছিল।

খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে কোনো বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে জাপানি, চাইনিজসহ বিদেশি বিজ্ঞানীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ প্রবণতা বন্ধ করা উচিত। কেন আমরা চিন্তা করি না? ওনারাও আমাদের মতো মানুষ। তাই তোমাদের শুধু পাঠ্য বই নিয়ে থাকলেই হবে না। বিজ্ঞানকে যখনই বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করা যাবে, তখনই তো মাথা খুলবে এনং সফল হবে।

পাট থেকে নিজের উদ্ভাবিত সোনালী ব্যাগ, পাটের তৈরি জুটন ঢেউটিন, পাটের তৈরি হেলমেট ও টাইলস আবিষ্কারের বিষয়ে ড. মোবারক আহমদ খান বলেন, আমি যখন যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণা করতে গেলাম, তখন দেখি আমার দেশ থেকে পাট নিয়ে বিদেশি শিক্ষকের সঙ্গে গবেষণা করলে অন্য দেশের সুনাম হবে। দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকেই নিজ দেশে ফিরে আসি। যদিও বিদেশে থাকার বহু সুযোগ ছিল। আজ আমার গবেষণা সফল হয়েছে।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই সোনালী ব্যাগের নামকরণ করেছেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। 

এবারের বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে বিভিন্ন স্টলে ভিন্ন ভিন্ন প্রজেক্ট নিয়ে বসেছিলেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে বায়োপ্লাস্টিক, ডিসবোট, দূষণ মুক্ত পরিবেশ ও আটোমেটিক লাইট সিস্টেম সেভ দ্য লাইফ, পাওয়ার সেভিং টাউন, ব্লাইন্ড গুগলসহ বিভিন্ন প্রজেক্ট উপস্থাপন করা হয়।

বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে দেশের প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।

সভাপতির বক্তৃতায় ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ বলেন, আজ এই খুদে বিজ্ঞানীদের দেখই আমরা নতুন দিনের স্বপ্ন দেখি। তোমাদের এই তি নদিনের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে আমরা আনন্দিত। ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষ এ রকম কাজে সবসময় সঙ্গে থাকবে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এ টি এম মঈনুল হোসেন, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. আব্দুস কুদ্দুস শিকদারসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিবাকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত