রেলের যাত্রী সেবার মান বাড়াতে ইন্দোনেশিয়া থেকে ২০০ বগি আনার জন্য বড় প্রকল্প নিয়েছে সরকার। প্রকল্পের আওতায় ধাপে ধাপে এসব বগির সিংহভাগ দেশে চলে এসেছে। বাকিগুলো শিগগিরই দেশে এসে পৌঁছবে বলে রেল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু বগি চলে আসার পরও ৯ কর্মকর্তা ইন্দোনেশিয়ায় কারখানা পরিদর্শনে গিয়েছেন। প্রকল্পের আওতায় বিদেশ সফর বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৪ লাখ টাকা। এ সফরে রেলমন্ত্রীর ব্যক্তিগত টাইপিস্ট যাওয়ার কথা থাকলেও ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে যেতে পারেননি। তবে বাকি নয়জন এখন সফরে রয়েছেন। এর মধ্যে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তা রয়েছেন। বৈদেশিক সহায়তা পুষ্ট এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেল সচিব মোফাজ্জেল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, মিটারগেজ ও ব্রডগেজ ক্যারেজ বা বগি তৈরির কারখানা দেখতে কর্মকর্তারা বিদেশ গেছেন। প্রকল্পের আওতায় ওইসব ক্যারেজ ইতিমধ্যে দেশে চলে আসছে কি না আমি জানি না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে আমি অফিস করছি না কিছুদিন থেকে। এ সফর বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। একই সঙ্গে সফর তালিকায় রেলমন্ত্রীর টাইপিস্টের বিষয়েও তিনি কোনো কথা বলতে চাননি। পরে তিনি রেল বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
রেল মহাপরিচালক সামজ্জামান রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে বর্তমানে বিদেশ সফরে রয়েছেন। এরপর রেল বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, সফরে গেছে জানি। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। কারণ আমি এটা ডিল করি না। তিনি অপর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (স্টক রোলিং) মঞ্জুর উল আলম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। তার মোবাইলে বারবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
রেল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়েকে এগিয়ে নিতে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন নতুন ২০০ যাত্রী কোচ আনার প্রকল্প নেওয়া হয় গত বছর। এর মধ্যে ৫০টি মিটারগেজ, বাকিগুলো ব্রডগেজ। প্রকল্পটি ২০২১ সালের জুন নাগাদ শেষ হওয়ার কথা। এ প্রকল্পে এডিবি দিচ্ছে ১ হাজার কোটি ৮ লাখ টাকা। বাকি ৩৭৪ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রেলবিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য মিটারগেজ ও ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ’ প্রকল্পের আওতায় এটি দ্বিতীয় ভ্রমণ। এর আগেও একদল কর্মকর্তা স্টাডি ট্যুর করে এসেছেন। এটা দ্বিতীয় প্রতিনিধিদল। এই তালিকায় ছিল ১০ জন। আলোচ্য প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ফকির মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের সঙ্গে স্টাডি ট্যুরে যাওয়ার অন্যরা হলেন ইআরডির যুগ্ম সচিব অমল কৃষ্ণা মল, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (উন্নয়ন) মো. জার্জিসুর রহমান, উপপ্রধান মুখলেসুর রহমান, চিফ পারসোনাল অফিসার (পশ্চিম) কাজী মোহাম্মদ সেলিম, পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সহকারী প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রধান মো. সালাহউদ্দিন ও আইএমইডির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিয়া।
এ সফরের সরকারি আদেশে (জিও) ১০ নম্বর তালিকায় ছিল মোহাম্মদ মাফাকহারুল ইসলামের নাম। যিনি রেলমন্ত্রী টাইপিস্ট বলে জানা গেছে। কিন্তু ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তিনি ইন্দোনেশিয়া যেতে পারেননি। গত ১২ জানুয়ারি রাতে তারা ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন। ২১ জানুয়ারি দেশে ফিরবেন বলে জিওতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলোচ্য প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) থেকে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় গত বছর ১ আগস্ট প্রথম ধাপে ২৬টি মিটারগেজ কোচ দেশে এসে পৌঁছায়। দ্বিতীয় ধাপে সেপ্টেম্বর মাসে আরও ২২টি মিটারগেজ কোচ দেশে পৌঁছায়। তৃতীয় থেকে অষ্টম পর্যন্ত প্রতি ধাপে ২২টি করে মোট ১৩২টি কোচ এসেছে। সর্বশেষ নবম ধাপে ২০২০ সালের মে মাস নাগাদ বাকি মিটারগেজ কোচগুলো বাংলাদেশ এসে পৌঁছবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেল বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, রেল বগি তৈরি করে বিদেশে পাঠাতে শিপমেন্ট থেকে শুরু করে বন্দর পর্যন্ত খালাস হতে কয়েক মাস সময় লাগে। এই হিসাবে রেলের বগিগুলো ইতিমধ্যে নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার কথা। নইলে জুলাই নাগাদ তারা সরবরাহ করতে পারবে না। এ অবস্থায় বিদেশে স্টাডি ট্যুর মানে প্রমোদ ভ্রমণ ছাড়া কিছু নয়।
×
