আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:১৬ এএম

দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হলো এবারের বিশ্ব ইজতেমা। গতকাল রবিবার বেলা ১১টা ৪৯ মিনিট থেকে ১৭ মিনিটের দীর্ঘ মোনাজাত পরিচালনা করেন দিল্লির মাওলানা জমশের। সমাপনী বয়ানের পর তিনি আরবি ও উর্দু ভাষায় মোনাজাত করেন। এতে দুনিয়া ও আখিরাত, দেশ-বিদেশের মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। মুসল্লিরা মোনাজাতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি, গুনাহ মাফ ও সবক্ষেত্রে আল্লাহর রহমত চান। মাওলানা জমশের বলেন, ‘হে আল্লাহ, তুমি আমাদের ক্ষমা কর, আমাদের ওপর রাজি হয়ে যাও। আমাদের অন্তরকে ইসলামের ওপর দাখিল করে দাও। পুরো উম্মতের ওপর রহম কর, সব মানুষকে হেদায়েত দাও। হে আল্লাহ, সকল পেরেশানি দূর করে দাও। ইজতেমাকে কবুল কর।’

তুরাগতীরের ইজতেমা ময়দান ছাড়াও দক্ষিণে উত্তরা, উত্তরে কলেজ গেট, পূর্বে টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরী ও পশ্চিমে আশুলিয়া পর্যন্ত প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় অন্তত ২৫ লাখ মুসল্লি মোনাজাতে অংশ নেন। আমিন, আমিন ধ্বনির সঙ্গে তারা কেঁদে বুক ভাসান।

মোনাজাতে অংশ নিতে শনিবার রাত থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে। সূর্য উঠতে না উঠতেই কুড়িল-বিমানবন্দর-আব্দুল্লাহপুর, টঙ্গী-কালীগঞ্জ, আশুলিয়া-সাভার ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কসহ বিভিন্ন পথে হাজারো মানুষ হেঁটে ময়দান ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। অসংখ্য নারীকেও ভিড় ঠেলে আসতে দেখা গেছে। মিল-কারখানার ভেতর ও ছাদ, ঘরবাড়ি, বেড়িবাঁধ, বিভিন্ন যানবাহন এবং নৌকায় বসে মানুষ মোনাজাতে শরিক হন। এ মোনাজাতে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, সোহরাওয়ার্দী শুভ, জুনায়েদ সিদ্দিকী, রাকিবুল হাসান, শাহরিয়ার নাফিজ প্রমুখ শরিক হন। মুশফিকুর রহীম ময়দানে এলেও শনিবার রাতে জরুরি প্রয়োজনে চলে যান।

ইজতেমায় অংশ নেওয়া মুসল্লিরা আসা-যাওয়ার পথে গাড়ি না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হলেও এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই বলে জানান। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বেলায়েত হোসেন জানান, সকালে প্রায় ৫-৭ কিলোমিটার হেঁটে ময়দানে এসে মোনাজাতে অংশ নিয়েছি। আবার হেঁটে বাড়ি যাচ্ছি। আল্লাহর রহমতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না বরং ভালোই লাগছে। মোনাজাতের আগে হেদায়েতি বয়ানে মাওলানা জমশেদ বলেন, ‘যে দ্বীন ইসলামের বিধান অনুসারে চলবে এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করবে, সে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন করবে। ঈমানকে শক্তিশালী করতে হলে মানুষকে মসজিদের পরিবেশে বসাতে হবে। জবরদস্তি নয়, তাজিমের সঙ্গে বুঝিয়ে মানুষকে মসজিদে আনতে হবে।’

আগামী ইজতেমার তারিখ ঘোষণা : মাওলানা জুবায়ের অনুসারীদের মতো দ্বিতীয় পর্বে গতকাল মাওলানা সা’দের অনুসারীরা আগামী ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করেন। ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়কারী মো. সায়েম জানান, চলতি বছরের ২৫, ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর প্রথম পর্বে মাওলানা জুবায়ের এবং ১, ২ ও ৩ জানুয়ারি ২০২১ সালে ইজতেমার দ্বিতীয়পর্বে মাওলানা সা’দের অনুসারীরা অংশ নেবেন।

মাওলানা সা’দকে নিয়ে হবে ইজতেমা : আগামী ইজতেমা মাওলানা সা’দ কান্দলভিকে নিয়ে করতে চান তার অনুসারীরা। এর আগে উভয়পক্ষের বিরোধ মিটে যাবে বলেও আশাবাদী তারা। গত শনিবার রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম ইজতেমা ময়দানে শীর্ষ মুরব্বিদের সঙ্গে আলাপকালে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। চট্টগ্রামের লালখান জমিয়াতুল উলুম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরী জানান, মাওলানা সা’দের কিছু বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আশা করছি, আগামী ইজতেমার আগে এসব মিটে যাবে। দুপক্ষ একসঙ্গে ইজতেমা করতে পারবেন।

ইজতেমার আয়োজকরা জানান, ইজতেমার দুই পর্বে ২৪ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা, বার্ধক্য ও হৃদরোগে তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া ১০০ জোড়া বর-কনের যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত