১৪ জেলায় ২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফল স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। জেলাগুলোতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ওই ফলাফল ঘোষণা কেন অবৈধ ও আইনগত কর্র্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে গতকাল সোমবার রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রুলে চার সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, মাদারীপুর, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, হবিগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরা, টাঙ্গাইল, বরগুনা ও ঠাকুরগাঁও জেলার শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আসাদউদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আসাদউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০১৩ এর ৭ ধারা অনুযায়ী, এই বিধিমালার অধীন সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদগুলোর ৬০ ভাগ নারী প্রার্থীদের দ্বারা, ২০ ভাগ পোষ্য প্রার্থীদের এবং বাকি ২০ ভাগ পুরুষ প্রার্থীদের দ্বারা পূরণ করতে হবে। কিন্তু গত বছর ২৪ ডিসেম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা চূড়ান্ত ফলাফলের ক্ষেত্রে সেটি অনুসরণ করা হয়নি। এসব জেলার নিয়োগবঞ্চিত কয়েকজন নারী প্রার্থী গত ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। প্রাথমিকের ওই শিক্ষক নিয়োগে নারী কোটার বিধানের বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় এর আগে একাধিক জেলার চূড়ান্ত নিয়োগের ফলাফল স্থগিত করে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
গত বছর ৩০ জুলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে লিখিত পরীক্ষা নিয়ে ৫৫ হাজার ২৯৫ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৮ হাজার ১৪৭ প্রার্থীকে গত ২৪ ডিসেম্বর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।
