কর্মসংস্থানের জন্য যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে দেশের গ্রামাঞ্চলে স্থাপিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে কার্যকর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই বলে এক জরিপে তুলে ধরেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি ও এশিয়া ফাউন্ডেশন। তাদের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘প্রান্তিক যুবসমাজের কর্মসংস্থানে সরকারি পরিষেবার ভূমিকা’ শীর্ষক ওই জরিপের প্রতিবেদন গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে তুলে ধরেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
জাতীয় যুবনীতিতে বর্ণিত ১৬টি ক্যাটাগরির প্রান্তিক গোষ্ঠীর মধ্যে চার ধরনের মানুষের ওপর জরিপটি চালানো হয়। এ ক্ষেত্রে ঠাকুরগাঁওয়ে সমতলের আদিবাসী, শহরের বস্তিবাসী, মাদ্রাসাপড়–য়া শিক্ষার্থী ও সিলেটে অবস্থানরত শহুরে যুবগোষ্ঠীর ৩৩৩ জনকে বেছে নেওয়া হয়।
মোয়াজ্জেম বলেন, গবেষণায় অংশ নেওয়াদের ৬০ শতাংশ মনে করেন, গ্রামীণ প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো শুধু নামে মাত্র দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে ঠিকমতো প্রশিক্ষণের ক্লাস হয় না, ভালো প্রশিক্ষক নেই।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত গাইবান্ধার যুবক সুমন খন্দকার বলেন, তিনি গ্রামের কয়েকজনকে একটি সরকারি প্রশিক্ষণে পাঠালেও সেখানে তিন দিনের বেশি ক্লাস হয়নি। তারা ইলেকট্রিশিয়ান হিসাবে কিছুই শিখতে পারেনি। ওই প্রশিক্ষণকেন্দ্রিক সরকারঘোষিত ১ লাখ টাকার ঋণ নিতে গিয়ে ১০ হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে হয়েছিল।
সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, আমাদের গোড়ায় গলদ রয়েছে, সে কারণেই দক্ষ লোক তৈরি হচ্ছে না। অথচ উৎপাদনশীল খাতে চাকরি করে প্রচুর টাকা বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে বিদেশিরা।
সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক বলেন পরিস্থিতির উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হবে, নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। সাংসদ রুমিন ফারহানা বলেন, বেকারত্বের হার দিন দিন বাড়ছে অথচ সরকার বলছে প্রবৃদ্ধির কথা। প্রবৃদ্ধির হিসাব দেখানো হলেও প্রকৃত প্রবৃদ্ধি যে হচ্ছে না বেকারত্ব বৃদ্ধিই তার প্রমাণ।
