সিরিজ জয়ের চেষ্টা করব : মাহমুদউল্লাহ

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ০১:০৬ এএম

সিদ্ধান্তের দোলাচল শেষে শেষ পর্যন্ত সবুজ সংকেত পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফর। সময় এসে গেছে দলের পাকিস্তানের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার। আজ রাত ৮টায় পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হবে বাংলাদেশ দল। বিশেষ বিমানে করে পাকিস্তান সময় রাত সাড়ে ১০টায় লাহোরে পৌঁছাবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। সেখানেই আগামী ২৪, ২৫ ও ২৭ জানুয়ারি হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের তিন ম্যাচ। প্রতি ম্যাচ শুরু হবে স্থানীয় সময় বেলা ২টায় (বাংলাদেশ সময় ৩টায়)। ১৫ সদস্যের দলের ১৩ জনের জন্য পাকিস্তান সফর এই প্রথম। শুধু তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ ২০০৮ সালের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের হয়ে পাকিস্তান সফর করেছিলেন। দেশ ছাড়ার আগে গতকাল শেষ সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।

সংবাদ সম্মেলনে অবধারিত উঠে এলো পাকিস্তান সফরে তার যাওয়া এবং মুশফিকুর রহিমের না যাওয়ার বিষয়টি। বাংলাদেশ ক্রিকেট ভক্ত সবারই জানা আছে দুই বোনকে বিয়ে করেছেন মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিক। তাহলে একই পরিবারে পাকিস্তান সফর নিয়ে ভিন্ন মতামতের কারণ কী? মাহমুদউল্লাহ অবশ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিবারের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন, ‘প্রথমে অবশ্যই (সিদ্ধান্ত) কঠিন ছিল। কারণ আমার পরিবারও চিন্তায় ছিল। আমি আমার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তো ওরা রাজি হয়েছে। এদিক থেকে আমি কিছুটা নিশ্চিন্ত, যেহেতু আমার পরিবার এতটা স্ট্রেস ফিল করবে না। কারণ পাকিস্তান আমাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাই দিচ্ছে। আর মুশির সিদ্ধান্ত আমিও সমর্থন করি। পরিবারের একটা ইস্যু থাকে সবসময়। শুধু ক্রিকেটার না একজন সাধারণ মানুষের জন্যও তার পরিবার সবার আগে।’

মুশফিকুর রহিম না থাকায় ব্যাট হাতে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে অভিজ্ঞ তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহকে। অনভিজ্ঞ মিডলঅর্ডারে এখন অধিনায়ককেই এই বাড়তি দায়িত্ব সামলাতে হবে। মাহমুদউল্লাহ অবশ্য জানালেন বিষয়টি তার এবং তামিমের জানা আছে, ‘আমি এবং তামিম- দুজনই ব্যক্তিগতভাবে ফিল করি যে আমাদের দায়িত্ব বেশি থাকবে। টপ অর্ডারে তামিমের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি কাজে আসবে। ও খুব ভালো ছন্দে আছে, রান করেছে এই বিপিএলে। আমি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করব যে আমার দায়িত্ব যেন ভালোভাবে পালন করতে পারি। আমার যে ভূমিকা থাকবে, শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করা- আমি ওই জিনিসটা করার চেষ্টা করব।’

নিজেদের নিয়ে কথা শেষে এল পাকিস্তান প্রসঙ্গ। দলটি তাদের সর্বশেষ দুটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে হেরেছে। নিজেদের মাটিতে শ্রীলঙ্কার কাছে এবং অস্ট্রেলিয়ার কাছেও। অবশ্য র‌্যাংকিংয়ে এখনো শীর্ষেই পাকিস্তান। তাই সতর্ক থাকছেন মাহমুদউল্লাহ। নিজ দলের সাম্প্রতিক ফর্ম ও ক্রিকেটারদের বিপিএল ফর্ম অধিনায়ককে সাহস জোগাচ্ছে ভালো করার, ‘র‌্যাংকিং ভিন্ন কথা বলে। ওরা শীর্ষে আর আমরা নয় নম্বরে। শেষ কয়েকটা সিরিজে পাকিস্তান হয়তো খারাপ করেছে। আমি মনে করি তারা অনেক শক্তিশালী দল টি-টোয়েন্টিতে। শেষ সিরিজে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে হেরেছে তারা। তারা হয়তো এই বিষয়টি নিয়ে কনসার্ন আছে। আমাদের ফোকাস করতে হবে নিজেরা কতটা ভালো খেলতে পারি। শেষ কয়েকটি সিরিজ যেভাবে খেলেছি তাতে আমি খুব আশাবাদী যে ভালো কিছু ম্যাচ আমরা উপহার দিতে পারব। ইনশাআল্লাহ সিরিজ জেতার চেষ্টা করব। আর এই মুহূর্তে দল নিয়ে খুবই খুশি। সবাই খুব ভালো পারফরম করেছে এই বিপিএলে। সব মিলিয়ে আমি খুব আত্মবিশ্বাসী আমার দল নিয়ে।’

অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে দলে পেসারদের আধিক্য ভালো লাগছে মাহমুদউল্লাহর। তারওপর রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলামদের অভিজ্ঞতায় ভরসা রাখছেন মাহমুদউল্লাহ, ‘টি-টোয়েন্টিতে যদি প্রোপার ভ্যারাইটিজ অব পেস বোলার থাকে তাহলে সেটা মনে হয় অনেক বেশি সাহায্য করবে। অস্ট্রেলিয়ায় স্পিনাররা অতটা সাহায্য পাবে না। যতটা আমরা উপমহাদেশে পেয়ে থাকি। সেক্ষেত্রে পেস বোলারদের ভূমিকাটি অনেক বেশি থাকে, এই কারণে আমাদের দলে হয়তো পেস বোলারদের আধিক্য এই মুহূর্তে বেশি। এবার আমাদের পেস বোলিং সাইডটা হয়তো অনেক বেশি অভিজ্ঞ এবং আমি তাদের ওপর আস্থা রাখছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত