ঢাকা মহানগরীতে বর্তমান পরিবেশ দূষণের পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই শহরকে ‘ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া’ বা ‘প্রতিবেশ সংকটাপন্ন’ এলাকা ঘোষণার বিষয়ে অভিমত দিয়েছে হাইকোর্ট। বুড়িগঙ্গার দূষণরোধ নিয়ে জনস্বার্থের একটি রিট মামলার শুনানিতে গতকাল বুধবার বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে এমন মত আসে।
শুনানিকালে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি রিট আবেদনকারী হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) আইনজীবী মনজিল মোরসেদের উদ্দেশে বলেন, ‘পত্রিকায় দেখেছি ঢাকা পৃথিবীর দূষিততম শহরের তালিকায় এক বা দুই নম্বরে রয়েছে। এখন যে অবস্থা তাতে এটিকে এখন ‘প্রতিবেশ সংকটাপন্ন’ এলাকা হিসেবে ঘোষণা প্রয়োজন।’ মনজিল মোরসেদ তাতে একমত পোষণ করলে আদালত এ সময় তাকে জানান, চাইলে তিনি এ বিষয়ে একটি সম্পূরক আবেদন কিংবা আলাদা আবেদনও করতে পারেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বর্জ্য সংশোধনাগার ছাড়া যেসব শিল্প-কারখানা বুড়িগঙ্গা দূষণ করছে সেসবের বৈধতা প্রশ্নে শুনানি ছিল গতকাল। আদালতে শিল্প মালিক সমিতির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমাতুল করিম।
গত ২০ জানুয়ারি একই বেঞ্চ এক আদেশে বুড়িগঙ্গা দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বর্জ্য সংশোধনাগারবিহীন ২৩১টি শিল্প প্রতিষ্ঠান অবিলম্বে বন্ধ করতে নির্দেশ দেয় পরিবেশ অধিদপ্তরকে। একই সঙ্গে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করতে বলা হয়।
আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করতে সহযোগিতা দিতে ঢাকা জেলা প্রশাসক, ডিএমপি কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে নির্দেশ দেয় আদালত। এই আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গতকাল শুনানি শেষে বুড়িগঙ্গার দূষণ নিয়ে ওয়াসার এমডির আদালত অবমাননার বিষয়ে আদেশের জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট।
মনজিল মোরসেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত বলেছেন, দূষণের দিক থেকে ঢাকা এখন এক নম্বর। এখন যে অবস্থা তাতে মানুষের মৌলিক অধিকার বেঁচে থাকার অধিকার বিপন্ন হচ্ছে। এ অবস্থায় ঢাকাকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন’ এলাকা ঘোষণা করা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকায় শুধু বায়ুদূষণই নয়, পানিদূষণ, শব্দদূষণসহ অন্যান্য দূষণও রয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট আইনগুলো দেখে তারপর আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
বুড়িগঙ্গা দূষণরোধে কার্যকর ব্যবস্থার নির্দেশনা চেয়ে ২০১০ সালে এইচআরপিবির করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ২০১১ সালের জুনে রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে বুড়িগঙ্গার সুরক্ষায় কয়েক দফা নির্দেশনা ছিল। একই সঙ্গে আদালত মামলাটি চলমান রেখে পরে আরও কিছু নির্দেশনা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল এ শুনানি হয় বলে জানান আইনজীবীরা।
