উহান করোনাভাইরাস

মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ আক্রান্ত ৪৪০

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ০২:১৭ এএম

চীনে রহস্যময় করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সরকার এখনো ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ও এর আচরণ সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৪০ ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। দেশটির সরকারি হিসাবে গত

সোমবার পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২২৩ জন। দুদিনের মাথায় এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে দাঁড়াল। সংক্রামক এ ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন। সর্বশেষ দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে এ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ভাইরাসটি কীভাবে ছড়াচ্ছে বা এর উৎস সম্পর্কে এখনো নিরেট তথ্য জানতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। উৎস সন্ধানে এখনো বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক ধারণা অনুসারে, চীনের উহান রাজ্য থেকেই এ ভাইরাসের উৎপত্তি।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের এক বিশেষজ্ঞ চলতি সপ্তাহে নিশ্চিত করেন যে, ভাইরাসটি অন্য কোনো উৎস থেকে ছড়ানোর চেয়ে মানব শরীর থেকে ছড়ানোর আশঙ্কাই সর্বাধিক। যদিও এখন এ মহামারীর উৎসের পেছনে এখনো বিভিন্ন প্রাণীকে সন্দেহের আওতায় আনা হয়েছে। উহানের বাজারের ইঁদুর ও শেয়ালের মাংস থেকে এ ভাইরাস ছড়াতে পারে এমন কথাও বলা হচ্ছে।

ভাইরাসটি সম্পর্কে চীনের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের প্রধান গাও ফু এএফপিকে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই জানতে পেরেছি যে, উহানের একটি বাজার থেকেই ভাইরাসটি ছড়াতে শুরু করে। ভাইরাসটি অভিযোজিত ও রূপান্তরিত হচ্ছে।’ হংকং ও যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের মতে, এ ভাইরাসে উহানের প্রায় ১৭০০ মানুষ ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন।

পেইচিংয়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা দেশবাসীকে নিয়মিত হাত ধোয়া, জনবহুল স্থান এড়িয়ে যাওয়া, বিশুদ্ধ বাতাস গ্রহণ ও মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে কাশি ও জ¦রে আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ারও নির্দেশনা দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গতকাল জরুরি এক বৈঠকে মিলিত হয়। নতুন করোনাভাইরাসের এ প্রাদুর্ভাবে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হবে কি না, বৈঠকে এটি পর্যালোচনা করে দেখা হয়। গত বছর শেষদিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ভাইরাসটির উদ্ভব হওয়ার পর রাজধানী পেইচিং, বৃহত্তম শহর সাংহাই থেকে শুরু করে বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চীনা নববর্ষের ছুটি উপলক্ষে দেশটির কোটি কোটি নাগরিক দেশের ভেতরে ও বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তুতি নেওয়ায় প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটি নিয়ে উদ্বেগ মারাত্মক আকার ধারণ করছে। আগামী শুক্রবার থেকে চীনে নববর্ষের ছুটি শুরু হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জনগণের উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রান্তের সংখ্যার প্রতিদিনের হালনাগাদ দিচ্ছে চীনের সরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত