নওগাঁর হাঁপানিয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে তিন বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার দুয়ারপাল সীমান্তের আন্তর্জাতিক পিলার নম্বর ২৩১/১০ এলাকার এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন উপজেলার বিষ্ণপুর বিজলীপাড়ার সন্দ্বীপ (২৪), কাটাপুকুর গ্রামের কামাল হোসেন (৩২) ও চকবিষ্ণপুর দীঘিপাড়ার মফিজুল ইসলাম (৩৮)। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই সীমান্তে
বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক চলছিল।
এদিকে যশোরের শার্শা উপজেলার অগ্রভুলোট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের নির্যাতনে এক বাংলাদেশি গরুর রাখাল নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। তার নাম হানেফ আলী খোকা (৩৫)। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে পরিবারেরর সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারে। পরিবারের অভিযোগ, গত বুধবার দুপুরে হানেফকে পিটিয়ে মেরে ফেলে রাখে ভারতের বন্যাবাড়ীয়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন-১৬ বিজিবি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে নওগাঁর হাঁপানিয়া সীমান্ত পথে কয়েকজন বাংলাদেশি রাখাল গরু আনতে ভারতে যান। গতকাল ভোরে গরু নিয়ে দুয়ারপাল সীমান্তের আন্তর্জাতিক পিলারের ২৩১/১০ এস এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে আসার সময় ক্যাদারীপাড়া ক্যাম্পের টইলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলে ভারতের ৮০০ গজ ভেতরে সন্দ্বীপ ও কামাল নামে দুই রাখাল নিহত হন। আর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মফিজুল বাংলাদেশে এসে মারা যান।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এ কে এম আরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক চলছে।
বিএসএফের নির্যাতনে রাখাল নিহত : এদিকে যশোরের শার্শা উপজেলার অগ্রভুলোট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের নির্যাতনে এক বাংলাদেশি গরুর রাখাল নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। অগ্রভুলোট বিজিবি ক্যাম্প ইনচার্জ নায়েব সুবেদার মোজাম্মেল হোসেন জানান, হানেফের বাবা শাহাজান আলী ক্যাম্পে এসে বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, হানেফ আলী সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে গরু আনতে গিয়ে বন্যাবাড়ীয়া ক্যাম্পের বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে। বিএসএফের নির্যাতনে হানেফ আলী ঘটনাস্থলে মারা যান। পরে তাকে বনগাঁ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃতদেহ ভারতের গাইঘাটা থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য তবিবুর রহমান জানান, ভারত থেকে বুধবার বাড়ি ফেরার পথে ভারতে বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে হানেফ। তাদের নির্যাতনের একপর্যায়ে সে মারা যায়। নিহত হানেফ আলীর স্বজনরা লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছেন।
