তাবিথের প্রচারে হামলা

পুলিশের মত ঠেলাঠেলি হাকিমের মতে অপরাধ

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ০২:০৪ এএম

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় ‘ঠেলাঠেলি, ধাক্কাধাক্কি ’ হয়েছে উল্লেখ করে উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে দারুস সালাম থানা পুলিশ। তদন্ত প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

তবে একই ঘটনার আরেক তদন্ত প্রতিবেদনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান শাহরীয়ার উল্লেখ করেছেন তাবিথের আনীত অভিযোগ ফৌজদারি অপরাধ। 

তিনি তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, ‘তাবিথ আউয়ালের আনীত অভিযোগ ফৌজদারি অপরাধসংশ্লিষ্ট, যা মোবাইল কোর্টে নয়, দণ্ডবিধি-১৮৬০ মতে বিচার্য। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।’

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দারুস সালাম থানাধীন বড়বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মুজিব সরোয়ার মাসুম ও তার সঙ্গীয় নেতাকর্মী সমর্থক এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও তার দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থকরা মুখোমুখি হওয়ার ফলে যে ঠেলা, ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে এ-সংক্রান্তে উভয় পক্ষ থেকে দাখিল করা অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে অনুসন্ধান করানো হয়। অনুসন্ধানকালে উভয় পক্ষ সরু রাস্তায় মুখোমুখি হওয়ারকালে উভয়পক্ষের মাঝে ঠেলা, ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।’ নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে জানায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিস্তারিত তদন্ত তো ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করা যাবে না। এর জন্য সময় প্রয়োজন। আজকের মধ্যে এই চিঠি আমি কমিশনে পাঠিয়ে দেব। কমিশন নিশ্চয় এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে তাই তাবিথ আউয়ালসহ সবাইকে চিঠি দিয়েছি। তাতে বলেছি, যেন প্রচারে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগে পুলিশ ও ইসিকে বিষয়টি জানায়।’

এ অবস্থায় প্রচারে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগে সংশ্লিষ্ট থানা ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আবুল কাসেম।

প্রসঙ্গত, ২১ জানুয়ারি রাজধানীর দারুস সালাম থানাধীন বড়বাজার এলাকায় তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মুজিব সরোয়ার মাসুম ও তার সঙ্গীয় নেতাকর্মী-সমর্থকের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দিতে বলে ইসি। অন্যদিকে মাসুমের প্রার্থিতা বাতিল ও শাস্তি নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেন তাবিথ আউয়াল।

আতিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেলেন না রিটার্নিং কর্মকর্তা : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দুটি অভিযোগের একটিরও সত্যতা পাননি রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কাসেম বলেন, ‘প্রথম যে অভিযোগ ছিল আতিকুল ইসলাম আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন। ওখানে তিনি (তাবিথ) যে ছবিগুলো দিয়েছেন, সেগুলো ওই দিনের ছিল না। ওখানে চারটা ছবি ছিল। তার মধ্যে দুটো ছবিতে তারিখ ও সময় বলা ছিল। ওই ছবি দুটোতে আতিকুল ইসলাম ছিলেন না। অন্য যে দুটো ছবি, সেখানে আতিকুল ইসলাম ছিলেন। আমার কথা হলো, একই ক্যামেরা দিয়ে তুললে দুটোতে থাকবেন আর দুটোতে থাকবেন না কেন? ওই ছবিগুলো ফেক (ভুয়া) ছিল।’ আরেকটা অভিযোগের বিষয় স্মরণ নেই বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে সেখানেও অভিযোগের সত্যতা পাননি বলেও জানান আবুল কাসেম।

এ ছাড়া এ পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ৩২টি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানান। ২৪টি অভিযোগ কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে, বাকি ৮টি মেয়র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। ৩২টি অভিযোগের ৩০টি নিষ্পত্তি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তিনজন প্রার্থীকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত