ম্যাচে লড়াই শেষ পর্যন্ত নিয়ে গেল বাংলাদেশ। কিন্তু দিন শেষে ৫ উইকেটে হারের খেসারত দিতে হলো ক্যাচ মিস করায়। পাকিস্তানের ম্যাচ জয়ের নায়ক শোয়েব মালিকের ক্যাচটি নাজমুল হোসেন শান্ত না ফেললে ম্যাচের ফল ভিন্ন রকম হতে পারত নিশ্চিত। এছাড়া সময়ে সময়ে বাজে ডেলিভারি দিয়ে পাকিস্তানকে বাউন্ডারি উপহার দেওয়া তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টির প্রথমটিতে বাংলাদেশের হারের কারণ। দিন শেষে মাহমুদউল্লাহ অকপটেই স্বীকার করলেন বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে হবে।
আরও আছে, নিজেদের ইনিংসে ধীরগতির ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়ার লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। এর দোষ অবশ্য পিচকেই দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। নিপাট ব্যাটিং উইকেট ইনিংস শুরুর খানিক বাদেই ধীরগতির হয়ে পড়ায় ব্যাটিং করা কঠিন হয়ে ওঠে। একই কথা বলেছেন ম্যাচসেরা শোয়েব মালিক ও পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজমও। তাই ব্যাটিংকে দোষ না দিয়ে লাহোরে হারের কারণ হিসেবে শোয়েব মালিকের ক্যাচ মিসকে দায়ী করা যেতে পারে।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক পিচের চমকপ্রদ আচরণ নিয়েই কথা বললেন শুরুতে, ‘হ্যাঁ, লড়াইটা দারুণ হয়েছে। আমরা ম্যাচ শেষ ওভারে আনতে পেরেছি তবে জিততে না পারা সবসময়ই হতাশার। এ ম্যাচে সবচেয়ে চমকে গেছে উইকেট দেখে। খুবই সুন্দর ব্যাটিং উইকেট মনে হয়েছিল কিন্তু বল পুরনো হতেই ধীরে আসতে শুরু করে। এতে করে ব্যাটিং করা কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের বোলাররা শেষের দিকে এটা খুব কাজে লাগিয়েছে।’
আজই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। খুব একটা সময় নেই ভুলগুলো নিয়ে কাজ করার। তবুও এই ম্যাচে নিজেদের কাজ করার পরিকল্পনা জানালেন মাহমুদউল্লাহ, ‘সামনের ম্যাচে আমাদের সøগ ওভার নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা আজ শেষের ওভারগুলো ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। ১০-১৫ রান কম এসেছে। এর সঙ্গে বোলিংয়ে শুরুতে বেশ কিছু রান দিয়ে ফেলেছি। শুরুতে ওরা (পাকিস্তান) সহজেই বাউন্ডারি পাচ্ছিল। এটা নিয়েও কাজ করতে হবে। হ্যাঁ, ফিল্ডিং নিয়েও কাজ করতে হবে। কারণ এই ম্যাচে কয়েকটি রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া করেছি। দুটি ক্যাচ মিস হয়েছে। কিন্তু এগুলো ম্যাচের অংশ। তবুও আমরা এগুলো নিয়ে কাজ করব।’
প্রশ্ন উঠেছিল বাংলাদেশ একাদশের নিয়মিত সংযোজন বাঁহাতি স্পিনার না থাকা নিয়ে। সাকিব আল হাসানের অভাব পূরণ করা হচ্ছে লেগ স্পিনার আমিনুল হক বিপ্লবকে দিয়ে। মাহমুদউল্লাহ জানালেন, ‘আমরা সাকিবকে পাচ্ছি না। এটা খুবই দুঃখের। ওর না থাকায় বড় একটা জায়গা খালি হয়েছে। এখানে কোনো বাঁহাতি স্পিনার না নেওয়ার কারণ বিপ্লব ভালো পারফর্ম করছে। তাই ওকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া দলে পেসাররা বেশ অভিজ্ঞ ও ভালো করছে। তাই এদের ওপর আস্থা রাখছি।’
চার দশক ধরে খেলে যাওয়া গৌরব অর্জন করার দিনে ম্যাচসেরা হয়েছেন শোয়েব মালিক। ১৯৯৯-এ অভিষেক হওয়া এই ক্রিকেটার ২০০০, ২০১০ পার করে ২০২০-এও পাকিস্তানের জার্সিতে মাঠে নেমেছেন। ম্যাচসেরা এ তারকা জানান, ‘শুরুতে ব্যাটিং করা সহজ ছিল। দেখলাম নতুন বল ভালোভাবে ব্যাটে আসছে। কিন্তু শেষের দিকে আবার বল খুবই ধীর হয়ে আসছিল। সেখানে আমরা ভালোভাবে উতরে গেছি। এছাড়া বোলিং ও ফিল্ডিং সত্যিই ভালো ছিল। যে কারণে আজ জয় পাওয়াটা সহজ হয়েছে।’
পাকিস্তান অধিনায়কের কণ্ঠে জয়ের স্বস্তি। টানা পাঁচ ম্যাচ হারের পর প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতল পাকিস্তান। হাঁফ ছেড়ে বাঁচা বাবর জানান, ‘অবশ্যই আমাদের আজ জেতাটা আত্মবিশ্বাসের জন্য খুবই দরকার ছিল। দলের সবাই চেষ্টা করেছি। শোয়েব মালিক সত্যিই দায়িত্ব নিয়ে খেলেছে। এটা খুবই দরকার ছিল। আর উইকেট আসলেও অন্যরকম আচরণ করেছে। তবে এর কারণে ম্যাচটা বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে। সামনের ম্যাচে আমাদের লক্ষ্য থাকবে পাওয়ার প্লেগুলো আরও কাজে লাগানোর, যাতে করে বেশি রান তোলা যায়।’
