মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ছোড়া গোলার আঘাতে গতকাল শনিবার গর্ভবতী একজনসহ দুই রোহিঙ্গা নারী নিহত হয়েছে বলে দেশটির পার্লামেন্টের এক এমপির উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে এএফপি। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত (আইসিজে) রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় মিয়ানমারকে নির্দেশ দেওয়ার দুই দিনের মাথায় এই ঘটনা ঘটেছে।
রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলীয় শহর বুথিডাং থেকে নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্য মং কিয়াও জান জানান, গভীর রাতে নিকটবর্তী ব্যাটালিয়ন থেকে ছোড়া গোলা কিন তায়ুং গ্রামে আঘাত হানে। তিনি বলেন, ‘কোনো যুদ্ধ ছাড়াই একটি গ্রামে কামানের গোলা নিক্ষেপ করেছে তারা, সেখানে কোনো লড়াই ছিল না।’ চলতি বছরে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার সেখানে বেসামরিকদের হত্যা করা হলো বলে জানিয়েছেন তিনি।
কিন তায়ুং থেকে মাইলখানেক দূরে বসবাসকারী রোহিঙ্গা গ্রামবাসী সো তুন ওও বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সদস্যরা সবসময় ভারী অস্ত্র থেকে গোলাবর্ষণ করে। যে এলাকাকেই সন্দেহজনক মনে হয় সেখানেই ভারী অস্ত্রের গোলাবর্ষণ করে তারা। আমরা ভয়ে থাকলেও অন্য কোথাও পালিয়ে যাওয়া অসম্ভব।’
তবে এ হামলার দায় অস্বীকার করেছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। হামলার দায় বিদ্রোহীদের দিয়েছে তারা। ভোররাতে বিদ্রোহীরা একটি সেতুতে আক্রমণ চালিয়েছিল বলে জানিয়েছে তারা। সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ভিকে-তে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী দুই রোহিঙ্গা নারী নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করলেও এর জন্য আরাকান আর্মিকে দায়ী করেছে তারা। দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় আরাকান আর্মির গোলা ওই গ্রামে আঘাত হেনেছে বলে দাবি তাদের।
২০১৭ সালে এই রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নিষ্ঠুর দমনাভিযান চালায়। তখন প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা প্রাণে বাঁচতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এখনো রাখাইনে ছয়-সাত লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ-ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে) গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ওপর যেন আর কোনো নৃশংসতা না হয় তা নিশ্চিত করে তাদের সুরক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নভেম্বরে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে আইসিজেতে একটি অভিযোগ দাখিল করে।
