পানি শোধনাগার ও এক্সপ্রেস ট্রেনসহ গুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

আগের সরকার রেলব্যবস্থাকে বন্ধ করতে চেয়েছিল

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:০১ এএম

যাতায়াতের সুবিধার্থে সরকার রেলওয়ে সম্প্রসারণের ওপর জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে রেললাইন অপরিহার্য। অথচ আগের সরকারের (বিএনপি-জামায়াত) সিদ্ধান্তই ছিল রেল বন্ধ করে দেওয়া। আমরা ক্ষমতায় এসে আবার রেলের উন্নয়নে কাজ শুরু করি।’

গতকাল রবিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি দুটি পানি শোধনাগার প্রকল্প, দুটি সেতু, কয়েকটি ট্রেন সার্ভিস, আর্থিক লেনদেনে মোবাইল অ্যাপস এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান ১২ ঘণ্টা সম্প্রচার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘রেললাইনে যেখানে পুরনো ব্রিজ রয়েছে, সেখানে ট্রেন ধীরে চালাতে হয়, দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই রেলের পুরনো ব্রিজগুলো আমরা সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দ্রুত প্রকল্প হাতে নিয়ে জরাজীর্ণ ব্রিজ ঠিক করা হবে বলে আশা করি।’

পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক টাকা খরচ করে পানি শোধন করা হয়। সবাই পানির অপচয় বন্ধ করবেন। অহেতুক পানি ছেড়ে দিয়ে কাপড় কাচা, রান্নাবান্না করবেন না।’

অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-তারাকান্দি-জামালপুর-ঢাকা রুটে একজোড়া নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’, ঢালারচর-পাবনা-রাজশাহী রুটে ‘ঢালারচর’ এক্সপ্রেস ও ফরিদপুর রুটে ‘রাজবাড়ী এক্সপ্রেস’ ট্রেনের রুট বর্ধিতকরণ, চট্টগ্রাম-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের র‌্যাক পরিবর্তন এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রদানে মোবাইল অ্যাপসভিত্তিক ‘পল্লী লেনদেন’ কার্যক্রমের উদ্বোধন।

পাশাপাশি এলজিইডি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘গুরুত্বপূর্ণ ৯টি ব্রিজ নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় ১৫ হাজার মিটার চেইনেজে তিতাস নদীর ওপর ৫৭৫ মিটার পিসি গার্ডার সেতু এবং মানিকগঞ্জ জেলার সদর উপজেলাধীন মানিকগঞ্জ-সিঙ্গাইর আরএইচডি রাস্তায় কালিগঙ্গা নদীর ওপর ৪৫৬ মিটার পিসি গার্ডার সেতু উদ্বোধন। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সরকার ও চট্টগ্রাম ওয়াসার যৌথ অর্থায়নে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ কোটি লিটার পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন শেখ রাসেল পানি শোধনাগার প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালে। এর আগে ২০১৮ সালের নভেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় শোধনাগারটি। হালদা নদী থেকে পানি তুলে ৬ ধাপে পানি পরিশোধন শেষে সরবরাহ লাইনে দেওয়া হয়।

বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে পানির চাহিদা রয়েছে ৪২ কোটি লিটার। আর ওয়াসার সক্ষমতা রয়েছে ৩৬ কোটি লিটার। এর মধ্যে শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার থেকে ১৪ কোটি লিটার, মোহরা পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার, শেখ রাসেল পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার ও নলকূপ থেকে ৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হয়। নতুন প্রকল্পটির মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরে বিশুদ্ধ পানির সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে ২ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ থেকে দৈনিক ১১ কোটি লিটার পানি পরিশোধন করা সম্ভব হবে; যা স্থানীয় ৭৫ শতাংশ পানির অভাব পূরণসহ খুলনা শহরের আরও ১৫ লাখ জনগণ সেবার আওতায় আসবে।

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ১২ ঘণ্টা সম্প্রচার কার্যক্রম উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নৃ-গোষ্ঠীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এখন সারা দেশের মানুষ দেখতে পাবে। অনুষ্ঠানে ছেলেমেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়বে। সংস্কৃতিকর্মীদের আয়-উপার্জনের সুযোগ হবে। সর্বোপরি প্রত্যেক মানুষের ভেতর যে সুপ্ত প্রতিভা আছে, মেধা আছে, তা বিকশিত হওয়ার সুযোগ হবে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, এলজিআরডি ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এবং সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মজিবুর রহমান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এবং তথ্য সচিব কামরুন্নাহার তাদের মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের চিত্র তুলে ধরে বক্তৃতা করেন।

এ ছাড়া পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত