বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবি

১২ কিস্তিতে ৫৭৫ কোটি টাকা দিতে চায় গ্রামীণফোন

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:০৩ এএম

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা নিরীক্ষা দাবির মধ্যে আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই হাজার কোটি টাকা তিন মাসের মধ্যে পরিশোধে গ্রামীণফোনের ওপর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে আপিল বিভাগের এ আদেশের প্রায় দুই মাস পর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটরটি। গতকাল আপিল বিভাগে করা পুনর্বিবেচনার আবেদনে আপাতত ১২ মাসে ১২ কিস্তিতে ৫৭৫ কোটি টাকা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। 

গতকাল গ্রামীণফোনের হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি  বলেন, আপিল বিভাগে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে এ আবেদন করা হয়েছে।

গত ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার নিরীক্ষা দাবির নোটিসের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে গ্রামীণফোনকে তিন মাসের মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ।

এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের আইনজীবী মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, তিন মাসের মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা পরিশোধে আপিল বিভাগ যে আদেশ দিয়েছিল, তা রিভিউ চেয়ে রবিবার আবেদন করা হয়েছে। আপিল বিভাগে দায়ের করা ওই আবেদনে আমরা ১২ মাসে ১২ কিস্তিতে ৫৭৫ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলেছি। আবেদনটি সোমবার (আজ) শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

গ্রামীণফোন ছাড়াও মোবাইল ফোন অপারেটর রবির কাছেও নিরীক্ষা দাবি বাবদ ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বিটিআরসির। কয়েক দফা চেষ্টা করেও নিরীক্ষা দাবির টাকা আদায় করতে না পেরে বিটিআরসি গ্রামীণফোন ও রবিকে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে নোটিস পাঠায়।

গতকাল গ্রামীণফোন কর্মকর্তা হোসেন সাদাত সাংবাদিকদের বলেন, গত ২৯ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেয়েছি আমরা। রিভিউ করতে হয় ৩০ দিনের মধ্যে। সেটা আমরা আজকে (রবিবার) দাখিল করেছি। তিনি বলেন, এর আগে আদালত রবিকে পাঁচ কিস্তিতে ১৩৮ কোটি টাকা পরিশোধের সম্মতি দিয়েছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কিস্তিতে ৫৭৫ কোটি টাকা পরিশোধের আবেদন করেছি।

দুই হাজার কোটি টাকার পরিবর্তে ৫৭৫ কোটি টাকা দেওয়ার ব্যাখ্যায় হোসেন সাদাত বলেন, নিরীক্ষা আপত্তির সাড়ে ১২ হাজার কোটির মধ্যে বিটিআরসির দাবি ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে মূল হচ্ছে ২ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা এবং বাকি ৬ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা সুদ। এর বাইরে ৪ হাজার ৮৬ কোটি টাকা পাবে এনবিআর। ভ্যাট বা ট্যাক্সের মামলায় প্রাথমিকভাবে ২৫ শতাংশ পরিশোধ করতে হয়। আমরাও মূল ২ হাজার ২৯৯ কোটি টাকার ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৫৭৫ কোটি পরিশোধের কথা বলেছি রিভিউ পিটিশনে।

এই টাকা একসঙ্গে না দিয়ে ১২টি কিস্তিতে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে জানিয়ে হোসেন সাদাত বলেন, আপিল বিভাগের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদনে সমান সংখ্যক অঙ্কে ১২ কিস্তিতে এই টাকা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী টাকা পরিশোধের জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় ছিল তাদের। আগেই যেন বিষয়টির একটি সুরাহা হয়, সেজন্য তারা আগেই আবেদন করেছেন।

বিভিন্ন খাতে প্রায় ১২ হাজার ৫৮০ কোটি (বিটিআরসির ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি ও এনবিআরের ৪ হাজার ৮৬ কোটি) টাকা পাওনা হিসেবে দাবি করে গ্রামীণফোন লিমিটেডকে গত বছরের ২ এপ্রিল চিঠি দেয় বিটিআরসি। বিটিআরসি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তিতে রাজি না হওয়ায় দুই অপারেটর আদালতের দ্বারস্থ হয়। ওই পাওনা দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে গ্রামীণফোন নি¤œ আদালতে একটি মামলা করে ও পাওনা দাবির অর্থ আদায়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চায়। গত বছরের ২৮ আগস্ট ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর বিরুদ্ধে গ্রামীণফোনের পক্ষে গত ১৬ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। গত ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট ওই অর্থ আদায়ের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে বিটিআরসি আবেদন করে, যা চেম্বার বিচারপতির আদালত হয়ে আপিল বিভাগে শুনানির জন্য আসে।

শুনানি শেষে গত বছরের ২৪ নভেম্বর গ্রামীণফোনকে তিন মাসের মধ্যে আপাতত দুই হাজার কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। অন্যথায় গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির দাবি করা সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার ওপর হাইকোর্টের জারি করা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হয়ে যাবে বলেও সতর্ক করে আদালত। এমন পরিস্থিতিতে গত ডিসেম্বরে নিরীক্ষা দাবির পাওনার বিষয়ে সালিশে যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিস পাঠায় গ্রামীণফোনের মূল কোম্পানি টেলিনর। সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল সেই নোটিসের জবাব দিয়েছেন বলে গত ২ জানুয়ারি বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক জানিয়েছিলেন। তবে গতকাল হোসেন সাদাত বলেন, আমাদের প্যারেন্ট কোম্পানি এখনো কোনো ধরনের জবাব বা চিঠি পায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত