কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে র্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুজন নিহত হয়েছে। গত শনিবার গভীর রাতে এ বন্দুকযুদ্ধ হয়। নিহতরা হলো টেকনাফের হোয়াইক্যং পূর্ব সাতঘরিয়া পাড়ার মো. নাসির ওরফে মুন্না (৩০) এবং বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল বাজার এলাকার মোরশেদ আলম (৩৫)।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান আসছে গোপন খবরের ভিত্তিতে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াবাজারের পূর্বে নাফ নদীর তীরে অভিযানে যায় পুলিশ। উপস্থিতি টের পেয়ে একদল মাদক কারবারি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে দুপক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়। একপর্যায়ে মাদক কারবারিরা পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার ইয়াবা, ৩টি দেশীয় অস্ত্র, ১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ গুলিবিদ্ধ মুন্নাকে উদ্ধার করে উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের এএসআই অহিদ উল্লাহ (৪০), কনস্টেবল আবদুস শুক্কুর (২৩) ও মো. হেলাল আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানান ওসি।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রাম লটমণি পাহাড়ি এলাকায় শনিবার রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে র্যাব-৭-এর টহল দলের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মোরশেদ আলম (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়।
র্যাব-৭-এর এএসপি তারেক আজিজ জানান, মোরশেদ এলাকার চিহ্নিত জলদস্যু। তার নামে হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতাসহ বাঁশখালী থানায় ১৬ এবং কুতুবদিয়া থানায় একটি মামলা রয়েছে। ২০১২ সালে বঙ্গোপসাগরে ৩১ জেলেকে ট্রলার থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা মামলারও অন্যতম আসামি মোরশেদ।
তিনি আরও জানান, দলবল নিয়ে মোরশেদ লটমণি পাহাড়ি এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন গোপন খবরে রাতে র্যাবের টহল দল অভিযানে যায়। উপস্থিতি টের পেয়ে মোরশেদ ও তার সহযোগীরা র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালায়। দুপক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে মোরশেদের লোকজন পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থল থেকে মোরশেদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দেশে তৈরি চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৯ রাউন্ড গুলি ও তিনটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান র্যাবের এ কর্মকর্তা।
