গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:১৭ এএম

গর্ভবতী নারী ও অনাগত সন্তানের সুরক্ষায় গর্ভজাত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট একটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় এলে চলতি সপ্তাহে এর ওপর শুনানি হতে পারে।

ইশরাত হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের দেশে বেশিরভাগ মানুষ ছেলে সন্তান কামনা করেন। এখনো কোনো কোনো পরিবারে গর্ভবতী নারীর কন্যাশিশু হবে শুনলে ওই পরিবার গর্ভবতী মায়ের ঠিকমতো যত্ন নেয় না। এতে করে ওই নারী ও অনাগত শিশুর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয়। আর যদি কোনো দম্পতির এর আগে একটি বা দুটি কন্যাসন্তান থাকে এবং পরবর্তী সময়ে আবারও কন্যাসন্তান হওয়ার খবর পান তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে অপরিণত শিশু জন্মের দিক থেকে বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে। এর অন্যতম কারণ শুধু কন্যাসন্তান হওয়ার খবর শুনে গর্ভবতী মায়ের যতœ কমে যায় কিংবা মায়ের মানসিক অবসাদ বাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে যদি পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ পরিচয় জানা বন্ধ করা যায়, তাহলে গর্ভবতীদের মানসিক অবসাদ কমে আসতে পারে।’

এই আইনজীবী জানান, চীন-ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মের আগে শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তার দাবি এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশেও গর্ভজাত মা ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিতে শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধ হওয়া উচিত। 

অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান জানান, গর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ ও নীতিমালা চেয়ে গত ১ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজ কল্যাণ সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সাতজনের উদ্দেশে আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন তিনি। জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করেন। আবেদনে গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এ মর্মে রুল চাওয়ার পাশাপাশি নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সব সরকারি, বেসরকারি হাসাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ধরনের পরীক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত