নির্বাচন বানচালের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপি মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনসহ দলটির ক্যাডাররা পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।
গত রবিবার গোপীবাগ এলাকায় ইশরাকের প্রচারের সময় সংঘর্ষ হয়। সে প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাপরিষদ সদস্য এইচ টি ইমাম বলেন, ‘আমাদের কর্মীদের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে। সে তথ্য-প্রমাণ নিয়ে আমরা আজ এসেছিলাম কমিশনে। এর আগে বিএনপির শক্তিশালী প্রতিনিধিদল এসেছিল, তাদের অনেক অভিযোগ ছিল। আসলে চোরের মায়ের বড় গলা। কারণ রবিবারের হামলা সাজানো ও পূর্বপরিকল্পিত। বিএনপির ক্যাডাররা এমনভাবে এটি করেছেন যে তারা আগে থেকেই তৈরি হচ্ছিলেন।’
জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডাররা সংঘর্ষে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে দাবি করে তিনি বলেন, ‘তাদেরকেই আনা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘যে আক্রমণ করা হয়েছে, যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর তথ্য আমরা নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছি। আমাদের অনেকেই আহত হয়েছেন। যাদের শরীরে গুলির আঘাত আছে, তারা হাসপাতালেও আছে। সেসব প্রমাণও আমাদের কাছে আছে।’
২০১৪-১৫ সালের ‘অগ্নিসন্ত্রাসের’ প্রসঙ্গ টেনে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘সে সময় যারা জেলে ছিল, তাদের ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করে তারা ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা এমন কিছু করতে পারে, যাতে নির্বাচন বানচাল হয়ে যায়। কমিশনকে আমরা এসব তথ্য দিয়েছি।’
বিএনপির ‘নাটকের ট্রেনিং আছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন যে অন্যদের ওপর হাত তুলতে গেছেন, আক্রমণমুখী ভাব ছিল সেগুলো জানা গেছে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, এই ইশরাক হোসেনের বাবা মরহুম সাদেক হোসেন খোকা কীভাবে গায়ে গরুর রক্ত মেখে মাথায় পট্টি দিয়ে সেজে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এ ধরনের নাটক তাদের করার অভ্যাস আছে, ট্রেনিংও আছে। আমরা বাস্তবতা নিয়ে কথা বলি, আমরা সত্যনিষ্ঠ, বস্তুনিষ্ঠ। আমরা চাই নির্বাচন সুষ্ঠু হোক। সরকারি দল থেকে আমরা এটাই চাইব যে নির্বাচন অবাধ হোক, গ্রহণযোগ্য হোক। আমাদের প্রার্থী এতটাই ভালো এবং গ্রহণযোগ্য যে তার বিজয় সুনিশ্চিত।’
এ সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক একটি ভিডিও দেখিয়ে বলেন, ‘রবিবার দুপুরে জোহরের আজানের পর আমাদের কর্মীরা কেউ নামাজে যান, কেউবা বাসায় খাবারের জন্য যান। তখন মাত্র ৪০-৫০ জন লোক ছিল আমাদের এ কার্যালয়ে। তখন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন কীভাবে হামলা করেছে সেটা দেখা যায়। এ ভিডিওতে পরিষ্কার যে কীভাবে নিজের হাতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মারধর করছে। তারা পরাজয় নিশ্চিত ভেবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য, অবৈধ অস্ত্রধারীদের সারা বাংলাদেশে থেকে জড়ো করা হয়েছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আইনবিষয়ক সম্পাদক নাজিবুল্লা হিরু, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওসার প্রমুখ।
