বিডিএফ বৈঠক কাল

স্বেচ্ছাব্যয়ের কৈফিয়ত চাইবে সরকার

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০৫ এএম

প্রতি বছর উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো তাদের ইচ্ছামতো ৩০-৪০ কোটি ডলার খরচ করে। এ বিষয়ে তারা যথাযথভাবে অনুমোদনও নেয় না। বিষয়টি উন্নয়ন সহযোগীদের একটি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার উদাহরণ। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (বিডিএফ) বৈঠকে এ বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে কৈফিয়ত চাইবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আসন্ন অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আলোকে উন্নয়ন দেশের মাইগ্রেশনের বিষয়েও অবহিত করা হবে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। আগামীকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুদিনব্যাপী এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ইআরডির সচিব মো. মনোয়ার আহমেদ। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিডিএফ বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, এবারের বৈঠকে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে জবাবদিহি চাওয়া হবে। কেননা তারা প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ কোটি ডলার এ দেশে ব্যয় করেন সরকারকে না জানিয়ে। যদিও তারা বলেন, এনজিও ব্যুরোকে জানিয়ে তারা এটা করেন। কিন্তু সরকারকে তো জানানো উচিত। সব সময় আমাদের অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। কিন্তু সত্যিকার অর্থ উন্নয়ন সহযোগী অর্থ ব্যয়ের অস্বচ্ছতার একটি উদাহরণ বলা যায়। অন্য দেশে গিয়ে আমরা কি ইচ্ছামতো অর্থ ব্যয় করতে পারব?

তিনি বলেন, আমরা চাই উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কার্যকরী অংশীদারত্ব। তারা বলবে আমরা অর্থ ব্যবহার করতে পারি না, আর অর্থ ছাড়ে নানা ধরনের শর্ত জুড়ে দেয়। তিনি বলেন, আমরা চাই মিউচ্যুয়ালি কাজ করতে। শর্তহীন চুক্তি থাকা দরকার।

রোহিঙ্গা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গার বিষয়ে মায়ানমার চুক্তি করেছে যে তাদের ফিরিয়ে নেবে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক আদালতে একটা রায়ও হয়েছে। যদিও রোহিঙ্গা আমাদের উন্নয়নের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ, কিন্তু তারপরও এবারের বিডিএফে এই ইস্যু রাখার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করা হয়েছে।  অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এত দিন বিডিএফের ফলাফল মনিটরিং করা না হলেও এবারের বৈঠকের পর থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এবারের বৈঠকটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী স্মরণে উৎসর্গ করা হয়েছে। ৩০-৪০টি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিশ^ব্যাংকের ও এশীয় ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জাপানের সংস্থা জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকবেন।  তিনি জানান, এবারের বৈঠকের মূল সেøাগান হচ্ছে ‘ইফেকটিভ পার্টনারশিপ ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’। বৈঠকের মূল অধিবেশনের বাইরে বিভিন্ন  বিষয়ের ওপর ৮টি কর্ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৈঠকে আসন্ন অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার রূপরেখা, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে সরকারের পদক্ষেপ তথা বিভিন্ন আর্থসামাজিক অগ্রাধিকার খাতে সরকারের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগে প্যারিস কনসোর্টিয়াম নামে এ বৈঠক হতো। পরে ২০০৫ সালে প্যারিস ডিক্লারেশনে বলা হয় লিডার অ্যান্ড ওনারশিপ। তারপর তৈরি হয় লোকাল কনসালটেটিভ গ্রুপ। সেখান থেকে পিআরএসপি ফোরাম এবং ২০১০ সালে গঠন করা হয় বিডিএফ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত