প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, ‘এত পরিশ্রম করি, এত মেধা খাটাই কিসের জন্য? ভোটারের ভোট দিতে পারা নিশ্চিত করার জন্য।’
মঙ্গলবার রাজধানীর বেইলী রোডে সিদ্ধেশ্বরী কলেজে ইভিএমে ভোটদান প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ দাবি করেন। একই দিন আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ইভিএমে জালিয়াতি হলে সে অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করারও সুযোগ রয়েছে।
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবারই প্রথমবারের মতো সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হতে যাচ্ছে। বিএনপি এই পদ্ধতিতে জাল ভোট ও কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে আগের মতো ব্যালটে ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছে।
সিদ্ধেশ্বরী কলেজে এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, আগে জাল ভোটের সুযোগ ছিল। ব্যালট ছিনতাইয়েরও সুযোগ ছিল। কিন্তু এখন সেটা থাকছে না। ইভিএমের মাধ্যমেই ভোটার নিজের ভোট দিতে পারবে।
সিইসি বলেন, ‘ সব কেন্দ্রে ডেমোনেসট্রেশন (প্রদর্শন) হচ্ছে যাতে জনগণ যারা জানতে চায় বুঝতে চায় তারা যাতে বুঝতে পারে ভালোই তো হচ্ছে।’ প্রদর্শনীতে অনেকেরই ফিঙ্গার প্রিন্ট নিচ্ছে না– এর কারণ কী জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘এর দুটি কারণ হতে পারে। একটা হচ্ছে তিনি এই কেন্দ্রের ভোটার না অথবা পাশের বুথের ভোটার'।
এতে সময় নষ্ট হচ্ছে বলে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘সবার হবে না এটা; হয়তো দুয়েকজনের হতে পারে। কারও হাতের রেখা বিলীন হয়ে গেছে বা ডিসপ্লেস্ড হয়ে গেছে এ রকম হতে পারে দুই একজনের।’
নির্বাচনী প্রচারে একাধিক মারামারির কথা স্বীকার করে নুরুল হুদা বলেন, ‘মারামারি হওয়া খারাপ। মারামারি মানে দুই দলেরই যদি ক্রিমিনাল অফেন্স হয় তাহলে থানায় কেস করবে, তারা ব্যবস্থা নেবে। ক্রিমিনাল অফেন্স হলে আমরা কিছু করতে পারি না।’
নির্বাচন ভবনে এক সাংবাদিক ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আলমগীরকে ইভিএম নিয়ে বিএনপি সন্তুষ্ট না বলে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে সবাই সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের (বিএনপি) বলেছি আপনারা দেখেন; তারা তো আসে না। আমরা তো ওপেন রেখেছি, না এলে কী করতে পারি? তারা যদি না আসেন, আমরা তাদের কীভাবে আনব?’ ইভিএম জালিয়াতির অভিযোগ এনে কেউ চ্যালেঞ্জ করলে তথ্য দেখানো যাবে জানিয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, ভোটের তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষণ করা থাকে। জালিয়াতি হলে মামলা করারও সুযোগ রয়েছে। কেউ ইচ্ছা করলে এ নিয়ে আদালতেও যেতে পারেন।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রসঙ্গে তিনি জানান, সুনর্দিষ্টভাবে কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাতে বড় ধরনের আচরণবিধি লিঙ্ঘত হয়েছে, এমন নয়। দুটি ঘটনা উত্তর ও দক্ষিণে রয়েছে।
ইসি সচিব বলেন, ‘দুটো ঘটনাই অতর্কিতে হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা আগে পুলিশকে না জানিয়ে পথসভা হয়েছে; এটা নিয়ে দুই দলের সঙ্গে কমিশনের কথা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না করার জন্য বলা হয়েছে। মাইকিং, লেমিনেটেড পোস্টার নিয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
