ঢাকার বনানীতে আড়ংয়ে এক নারী কর্মীর পোশাক পরিবর্তনের দৃশ্য গোপনে ধারণ করে পরে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সিরাজুল ইসলাম ওরফে সজীব (২২) গতকাল মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ওই যুবককে গত শনিবার কাফরুল থানার শেওড়াপাড়াস্থ মণিপুর স্কুলের সামনের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপির) সাইবার ক্রাইম ইউনিট। গত রবিবার আদালতে হাজির করা হয়। তাকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সজীবের মোবাইলে আরও অনেক নারীর পোশাক পরিবর্তনের দৃশ্যের ভিডিও রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহকারী কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সজীব আড়ংয়ের বনানী শাখাতেই একসময় বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করত। সে গত ১১ জানুয়ারি রাতে এক তরুণীকে ট্রায়াল রুমে তার (তরুণী) পোশাক পরিবর্তনের দৃশ্যের ভিডিও ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারে দিয়ে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করে। এরপর ১৬ জানুয়ারি বনানী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। যার তদন্তে নামে ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি ও ক্রাইম বিভাগ। সাইবার ক্রাইম ইউনিট প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে গত শনিবার সজীবকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছে আরও প্রায় দশ তরুণীর পোশাক পরিবর্তনের দৃশ্যের ভিডিও পাওয়া গেছে।’ ধ্রুব আরও বলেন, ‘তদন্তে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় আর কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আজ (গতকাল) সজীবকে আদালতে পাঠানো হয়। সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।’
সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আ ফ ম আল কিবরিয়া জানান, সজীবের মোবাইল ফোনে তার ব্যবহৃত ফেইসবুক আইডিটি লগড ইন অবস্থায় পাওয়া যায়। অভিযোগকারী আড়ংয়ের ওই নারী কর্মীর ভিডিওটি ছাড়াও একই রকম আরও অনেক ভিডিও পাওয়া যায় তার মোবাইলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে বলে, গত বছর ওই আউটলেটে কর্মরত থাকা অবস্থায় চতুর্থ তলার কর্মচারী রেস্টরুমের বাইরের সানসেটে দাঁড়িয়ে সেলফি স্টিক দিয়ে মোবাইল ক্যামেরা ব্যবহার করে নারী কর্মচারীদের অজান্তে তাদের পোশাক পরিবর্তনের ভিডিও ধারণ করত। তার মোবাইলে পাওয়া ভিডিওগুলো ওখানে কর্মরত অনেক নারী কর্মচারীর। এসব ভিডিও সে গত ডিসেম্বরে চাকরিচ্যুত হওয়ার আগে পর্যন্ত একই কৌশলে ধারণ ও সংরক্ষণ করে।
এদিকে আড়ংয়ের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম এক বিবৃতিতে বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে তাদের বনানী শাখার একজন বিক্রয় প্রতিনিধি ‘যৌন হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ করলে অভ্যন্তরীণ তদন্তের ভিত্তিতে সিরাজুল ইসলাম সজীবকে চাকরিচ্যুত করা হয়। সজীবের বিরুদ্ধে বনানী আউটলেটের বর্তমান মামলাটির ব্যাপারে আমরা অবহিত আছি। পাশাপাশি ভুক্তভোগী অভিযোগকারীকে শুরু থেকেই সর্বাত্মক সহায়তা করে আসছি। তিনি বলেন, আড়ং যৌন হয়রানিসহ যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নীতিগতভাবে সর্বদা কঠোর অবস্থানে থাকে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত আড়ং সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে কঠোর হাতে দমন করার জন্য তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। চলমান মামলাটির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আড়ংয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন।
