ব্যাংকের সাড়ে ৩ কোটি টাকা জুয়ায় হারালেন ব্যাংক কর্মকর্তা

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ০৫:৩২ পিএম

প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা থেকে চুরি করে রাজশাহী শাখার ক্যাশ ইনচার্জ শামসুল ইসলাম ফয়সাল জুয়া খেলেছেন। অনলাইনে জুয়া খেলে তিনি সব টাকাই হারিয়েছেন। প্রায় দু’বছর ধরে বেট৩৬৫ অ্যাপসের মাধ্যমে তিনি জুয়া খেলে আসছিলেন।

আন্তর্জাতিক জুয়াড়ি চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন তিনি। ব্যাংক থেকে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ফয়সাল।

তিন দিনের রিমান্ড শেষে ফয়সাল স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হলে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে হাজির করা হয়।

এদিকে টাকা আত্মসাতের ঘটনা তদন্তে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় থেকে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ্ আলমের নেতৃত্বে  উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত টিম রাজশাহীতে এসে কাজ শুরু করেছেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ্ আলম জানান, এই টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ফয়সাল একাই নাকি ব্যাংকের আরো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ভল্টে টাকা সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় অন্তত দুজন কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকে। এ ক্ষেত্রে কী হয়েছে তাও দেখা হচ্ছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান,  ফয়সাল ব্যাংকের টাকা দিয়ে নিজের নামে সুবর্ণভূমি আবাসিক এলাকায় প্লট ও বাকি টাকা দুই বন্ধুকে ধার দিয়েছেন বলে প্রথমে জানিয়েছিলেন। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন অন্তত দু’বছর ধরে বেট৩৬৫ অ্যাপসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জুয়াড়ি চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা নিয়ে তিনি জুয়া খেলে হেরেছেন।

ফয়সাল পুলিশকে জানিয়েছেন, জুয়া খেলতে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা চুরি করেছিলেন। ব্যাংকের রাজশাহী শাখার ভল্টে সব সময় প্রায় ১৫ কোটি টাকা থাকত। টাকা রাখার ভল্টের সামনের লাইন ঠিক রেখে পেছনের লাইন থেকে তিনি টাকাগুলো সরাতেন। এতে করে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার সন্দেহ হতো না। ক্যাশ ইনচার্জ হিসেবে তিনিই দৈনিক টাকার হিসাব রাখতেন। খাতা-কলমে টাকার কোনো গরমিল ছিল না।

শাখা ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা খান বলেন, ২৩ জানুয়ারি ভল্টের সমস্ত টাকা গণনার পর ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা কম পাওয়া যায়। এ সময় ফয়সাল টাকা সরানোর কথা স্বীকারও করেন। বিষয়টি আমরা ওই রাতেই ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাই। পরে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী থানায় মামলা করি এবং রাতেই ফয়সালকে পুলিশে হস্তান্তর করি। পুলিশের কাছেও তিনি টাকা সরানোর কথা স্বীকার করেন। এ বিষয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের ঢাকার একটি দল ঘটনা তদন্ত করছেন। তারা খুঁজে বের করবেন এর সঙ্গে কারা কারা জড়িত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত