ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হলে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:২৪ পিএম

ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধে আঘাত করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার সবসময় সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গার প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সংসদে সভাপতিত্ব করেন।

ঢাকার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মেয়েদের ওড়না পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে রাঙ্গার এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। মেয়েদের ওড়না পরা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, স্বার্বভৌম ও ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। বর্তমান সরকার ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও অন্য সব ধর্মের চেতনা ও মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর।’

আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া আমরা শুরু করে দিয়েছি। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং এটা চলতে থাকবে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সচেতনতার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জননিরাপত্তা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ ও সুদৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে। দুর্নীতি, মাদক নির্মূল ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের মাধ্যমে আমাদের অভিলক্ষ্য হলো- নিরাপদ জীবন ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠন। সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূলে পুলিশ বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

সরকারি দলের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের নানামুখী শ্রম কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি বছর গড়ে ৭ থেকে ৮ লাখ কর্মী বিদেশ যাচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৬৬ লাখ ৩৩ হাজার ২৫৪ জনের বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ সময়ে রেমিটেন্স এসেছে ১৫৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।’

সরকারি দলের আহসানুল ইসলামের (টিটু) সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই ছাত্রছাত্রীরা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই হাতে-কলমে কাজ শিখবে। আর এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এ জন্য আমরা স্কুল থেকেই নির্দিষ্ট বিষয়গুলোতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে আমরা শিক্ষাকে ঢেলে সাজাচ্ছি। কেউ ইচ্ছা করে বেকার থাকলে সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু এখন এত বেশি কর্মসূচি আমরা হাতে নিয়েছি তাতে যে কেউ চাইলে কিছু না কিছু করে খেতে পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত