তাবিথের প্রচারে নেমে ‘হামলায়’ আহত রিজভী

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২০, ০১:৪১ এএম

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে প্রচারে নেমে প্রতিপক্ষের হামলায় দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দলটির নেতারা বলছেন, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর কারওয়ানবাজার রেলগেট এলাকায় চালানো এ হামলায় রিজভীসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সিটি নির্বাচন একতরফা করতে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা করা হয়েছে।

রিজভীর ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণে কারওয়ানবাজার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে বিএনপি নেতা রহুল কবীর রিজভীকে দেখা যায়নি। তাছাড়া তাদের ওপর কোনো হামলার ঘটনাও ঘটেনি। তবে দুপক্ষে দৌড়াদৌড়ির ঘটনা ঘটেছে।’

বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রিজভী ভাইয়ের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল এবং আমি ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী আজিজুর রহমান সাব্বিরকে নিয়ে কারওয়ানবাজার এলাকায় গণসংযোগ করছিলাম। কাঁচাবাজারসহ আশপাশের এলাকায় প্রচার শেষে রেললাইন হয়ে ট্রাক স্ট্যান্ডের দিকে যাওয়ার পথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে রিজভী ভাইসহ আমরা কয়েকজন আহত হয়েছি।’

বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুনীর হোসেন বলেন, আহত রিজভী আহমেদসহ অন্যদের কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। রিজভী হাতে ও পায়ে আঘাত পেয়েছেন। দুই জায়গাতে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। তাকে হাসপাতালের ৯২৭ নম্বর কেবিনে রাখা হয়েছে।

সিটি নির্বাচন একতরফা করতেই রিজভীর ওপর হামলা : রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ হামলার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘সিটি নির্বাচন একতরফা করতে রিজভীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি প্রার্থীদের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রচারে সন্ত্রাসী হামলার উদ্দেশ্যই হচ্ছে ভোটের দিন যেন ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে সাহস না পায়।’

তাবিথের পক্ষে রিজভীর নেতৃত্বে নির্বাচনী প্রচারে এ হামলা পরিকল্পিত উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘কারওয়ানবাজারে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারের সময় সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে রিজভীসহ বিএনপির ব্যাংকিং ও রাজস্ববিষয়ক সম্পাদক লায়ন হারুনুর রশীদ, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শফিউল বারী বাবু এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলসহ বেশকিছু নেতাকর্মীকে আহত করে।’

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, ‘জনগণের কল্যাণ সাধন নয় বরং ক্ষমতার দাম্ভিকতায় ত্রাস সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ অতীতের নির্বাচনগুলোর মতোই ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ভোট ডাকাতি এবং জালিয়াতির মেশিন ইভিএমের মাধ্যমে ভোট কারচুপি করে নিজেদের দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে চায়।’

রিজভীকে দেখতে হাসপাতালে নেতাকর্মীরা : গতকাল সন্ধ্যার পর রিজভীকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, উত্তর ও দক্ষিণের দুই মেয়র প্রার্থী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত