গোপীবাগে ইশরাকের প্রচারে হামলা-সংঘর্ষ

গুলিবর্ষণকারী ‘সাবেক ছাত্রদল নেতা’ গ্রেপ্তার

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২০, ০১:৫৩ এএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেনের প্রচারে সংঘর্ষের সময় গুলিবর্ষণের অভিযোগে আরিফুল ইসলাম (৪৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর হাতিরঝিল মহানগর প্রজেক্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তিনি ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও ইশরাক হোসেনের পিএস (একান্ত সচিব) বলে দাবি করেছে পুলিশ।

তবে ইশরাকের নিবার্চনী টিমের সদস্য খুরশীদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, ইশরাক হোসেনের কোনো ব্যক্তিগত সহকারী বা একান্ত সচিব নেই। আরিফুল ইসলাম দলের একজন সমর্থক মাত্র। নির্বাচনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি অন্যদের মতোই নিজ উদ্যোগে অংশ নিয়েছিলেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন বলেন, ২৬ জানুয়ারি রাজধানীর ওয়ারী থানাধীন গোপীবাগ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার ওয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগও ছায়া তদন্ত শুরু করে। ওই ঘটনায় নানা ধরনের তথ্যের অবতারণা হয়। যে কারণে ওই ঘটনায় অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসাটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, তদন্তে স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারিত ভিডিও পর্যালোচনা করা হয়। গুলিবর্ষণকারী অস্ত্রধারীকে শনাক্তে তার মুখমণ্ডল, পরিহিত জামা-কাপড়, জুতা, হেলমেট ইত্যাদি বারবার পর্যবেক্ষণ করা হয়। গুলিবর্ষণের কিছুক্ষণ আগে ধারণ করা স্থিরচিত্রের সঙ্গে হেলমেটবিহীন অনুরূপ ছবি দেখতে পেয়ে দুটি দৃশ্যের স্থিরচিত্র পাশাপাশি নিয়ে মিলিয়ে নিশ্চিত হয়ে আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আরিফুল ওই সময় গুলিবর্ষণ করেছে বলে স্বীকার করেছে। ঘটনার পর আমরা গুলির খোসা পেয়েছি ঘটনাস্থল থেকে। সেই গুলির খোসার সঙ্গে তার জব্দ করা গুলির মিল আছে। তার ব্যবহত অস্ত্রটি বৈধ নাকি অবৈধ তা তদন্ত করে দেখা হবে। তবে বৈধ অস্ত্র যদি কেউ অবৈধভাবেও ব্যবহার করেন তাহলেও তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, টেকনোলজি ব্যবহার করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি তিনিই সেই গুলিবর্ষণকারী ব্যক্তি। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত গুলির খোসার সঙ্গে জব্দকৃত গুলির মিল রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত