সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব ডিজি

ম্যানহোলের ঢাকনা চোরদের কাউন্সিলর করবেন না

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:০৫ এএম

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে কোনো ছিনতাইকারী বা ম্যানহোলের ঢাকনা চোরকে ভোট না দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনে ছিনতাইকারী, ম্যানহোলের ঢাকনা চোর শ্রেণির লোক যাতে নির্বাচিত হয়ে না আসে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। এটা খুব দুঃখজনক, আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও ম্যানহোলের ঢাকনা চোর কাউন্সিলর হয়ে আসে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাহিনীটির মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে র‌্যাবের নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

ছিনতাইকারী বা ম্যানহোলের ঢাকনা চোরদের ভোট না দেওয়ার অনুরোধ প্রসঙ্গে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমাদের সামাজিক যে আন্দোলনগুলো রয়েছে, বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধগুলোতে জনগণের ভোটে যারা নির্বাচিত হবেনÑ তাদের প্রত্যেককে আমরা সঙ্গে পাই। আমরা জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’

আজ শুক্রবার ও পরদিন শনিবার যারা রাজধানীতে চলাফেরা করবেন, তাদের প্রত্যেককে ছবি-সংবলিত পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ জানিয়ে র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘ভোটের সময় বিনা প্রয়োজনে নাগরিকদের ঢাকায় অবস্থানে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। নগরবাসীর সুবিধার্থে সঙ্গে ঠিকানা নির্দেশক ফটো আইডি রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। যাতে প্রতিটি ভোটার নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ভীতিমুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারেন।’

র‌্যাবের নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘প্রতিটি কেন্দ্রে র‌্যাবের একটি প্যাট্রলিং টিম থাকবে। ঢাকায় পাঁচটি ব্যাটালিয়ন রয়েছে, সেখানে স্ট্রাইকিং ফোর্স রিজার্ভ থাকবে। যাতে যেকোনো আপৎকালীন পরিস্থিতি অল্প সময়ের মধ্যে মোকাবিলা করা যায়। কমান্ডো বাহিনী ও হেলিকপ্টার টিম প্রস্তুত থাকবে। বোম্ব স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টা পুরো পরিস্থিতি স্পেশাল মনিটরিংয়ে থাকবে।’

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে র‌্যাব সদস্যরা মাঠে থাকছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে সব হুমকি এবং ঝুঁকি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং করা হচ্ছে।’

র‌্যাব ডিজি জানান, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রবেশপথে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি চালাবেন তার বাহিনীর সদস্যরা। ভোটগ্রহণ ও গণনা থেকে শুরু করে পরদিন পর্যন্ত সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে থাকবে র‌্যাব। যে কেন্দ্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে, সেদিকে র‌্যাবের বাড়তি নজর থাকবে।

ভোটের মাঠের পরিবেশ সুসংহত রাখতে বিনা প্রয়োজনে কাউকে ঢাকায় না থাকার আহ্বান জানিয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনে ভাই-বোন ও আত্মীয় প্রার্থীর ক্যাম্পেইন করার জন্য যারা ঢাকায় এসেছিলেন, তাদের থ্যাংকস। এবার আপনারা চলে যান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে অপ্রয়োজনীয় কোনো লোকের অপতৎপরতা আমরা চাই না। কারণ আজ রাতে প্রচারণা শেষ হয়ে যাবে। যদি কেউ থেকেও যান, আশা করব আপনি যেখানে আছেন, সেখানেই থাকবেন। যারা জেনুইন ভোটার, তাদের চলাফেরা ও ভোটদানে সমস্যা করবেন না।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘বাইরের কেউ ঢাকায় অবস্থান করলে তাদের জেলে পাঠাব বিষয়টা এমন নয়। প্রত্যেকটা মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। জেল-জুলুমের ভীতি আমরা দেখাতে চাই না। কাল-পরশু যারা রাজধানীতে চলাফেরা করবেন, তারা সঙ্গে ঠিকানা নির্দেশক ফটো আইডি রাখুন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত