মাঝে ক্রিকেট খেলেননি। এবারের বিপিএলে খুব আলোচনায়ও ছিলেন না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেন পাকিস্তানের লাহোরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে। সেখানে টেস্ট ধরনের ব্যাটিংয়ের কারণে সমালোচনায় বিদ্ধ। তবে গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরিতে তামিম ইকবাল আবার চলে এলেন ইতিবাচক আলোচনায়। আর ঘটনা ঘটল পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের মাত্র ৬ দিন আগে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রথম রাউন্ডের খেলার দ্বিতীয় দিন ছিল গতকাল। মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে পূর্বাঞ্চলের প্রথম ইনিংসে গোটা দিন খেলে ২২২ রানে অপরাজিত বাঁহাতি ওপেনার তামিম। ২৮১ বলের ইনিংসটি তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ। সাজানো ৩০টি বাউন্ডারিতে। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনা টেস্টে করা ২০৬ ছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তামিমের জীবনের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। এদিন তামিমকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুমিনুল হকও হাঁকিয়েছেন সেঞ্চুরি। তার ইনিংসটি ১৯৪ বলে ১২ চার ও ১ ছক্কায় ১১১ রানের। তামিমের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ২৯৬ রানের জুটি তার। তাদের ওপর ভর করে ২ উইকেটে ৩৯২ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে পূর্ব। মধ্যাঞ্চলের চেয়ে এগিয়ে ১৮২ রানে। তামিমের সামনে ট্রিপল সেঞ্চুরির হাতছানি।
তামিমের ইনিংসটি প্রায় ৮০ স্ট্রাইক রেটের। যেখানে তার টেস্ট স্ট্রাইক রেট ৫৬.৫৭। এমন নয় যে খুব মেরে খেলেছেন। সতর্ক হয়েই ইনিংস গড়েছেন। মারার মতো বল পেলে মেরেছেন। তবে বল হাওয়ায় ভাসিয়েছেন কম। ছক্কার মার নেই এত বড় ইনিংসে।
দিনের শুরু ০ রানে। দলের ৬২ রানের সময় ওপেনিং পার্টনার পিনাক ঘোষকে (২৬) হারানোর সময় তামিমের ৩৪। শুরু থেকে অনেকটা ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট করা তামিম ঝুঁকি নিয়েছেন। গুছিয়ে নেওয়ার পর তার কাছে সব খুব সাবলীল হয়ে গেছে। মোস্তাফিজুর রহমানকে এক ওভারে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন। আবার নার্ভাস নাইন্টিজে গিয়ে ধৈর্যও ধরেছেন। ১২৬ বলে হয়েছে সেঞ্চুরি, যা ফার্স্ট ক্লাসে তামিমের ১৬তম। ২০১৫ সালের পর ঘরোয়া ফার্স্ট ক্লাসে এই প্রথম সেঞ্চুরি পেলেন। বিসিএলে খেলছেন ৬ বছর পর।
তখন মুমিনুল ফিফটির কাছাকাছি। সেঞ্চুরির পর তামিম আরও দ্রুত এগিয়েছেন। স্পিনার সাইফ হাসানকে বাউন্ডারি মেরে ৯২ হলো মুমিনুলের। ১৬৫ রানে দাঁড়ানো তামিম পরের ওভারে আবার ফিজকে তিন বাউন্ডারি হাঁকান। এরপর শুভাগত হোমকে বাউন্ডারি মেরে তামিম যখন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফার্স্ট ক্লাব ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছান, তখনো মুমিনুলের ৯৯। ওই ওভারে সিঙ্গেল নিয়ে ৩ অঙ্কে পৌঁছান মুমিনুল, যা তার ২১তম ফার্স্ট ক্লাস সেঞ্চুরি। প্রথম শ্রেণিতে এদিন ৭ হাজার রান পেরিয়েছেন মুমিনুল। তিনি তরুণ পেসার মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর বলে ক্যাচ তুলে ফিরলেও ইয়াসির রাব্বিকে (২২*) নিয়ে দিনটা হার না মেনে কাটিয়ে দিয়েছেন তামিম।
দক্ষিণ এগিয়ে ৯৫ রানে
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটা দক্ষিণাঞ্চলের হাতে। উত্তরের প্রথম ইনিংস ২০৭ রানে গুটিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ৪০ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে তারা। এগিয়ে আছে ৯৫ রানে। আগের বিকেলে ইনিংসের প্রথম ওভারে ৪ উইকেট নিয়ে উত্তরাঞ্চলকে কোণঠাসা করেছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের পেসার শফিউল ইসলাম। তবে নিচের দিকের ব্যাটসম্যানরা লড়ে উত্তরের রান ২০০ পার করেন। ওপেনার রনি তালুকদার ৫৫, আট নম্বরে নেমে আরিফুল হক অপরাজিত ৫৮, তার আগে তানবীর হায়দার ৩৪ করে প্রতিরোধ গড়েছিলেন।
৫৫ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা দক্ষিণের এনামুল হক বিজয় (০) শুরুতে মাঠ ছাড়েন চোটের কারণে। আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকানো ফজলে রাব্বি ২ রান করে তাসকিন আহমেদের শিকার। ওপেনার শাহরিয়ার নাফীসের (১৯*) সঙ্গে শামসুর রহমান (১৬) জুটি বেঁধে নিরাপদে শেষ করেছেন দিন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
মধ্যাঞ্চল ১ম ইনিংস : ২১৩। পূর্বাঞ্চল ১ম ইনিংস : ৩৯৫/২ (তামিম ২২২*, মুমিনুল ১১১, ইয়াসির ২২*)। দক্ষিণাঞ্চল ১ম ইনিংস : ২৬২ ও ২য় ইনিংস ৪০/১ (নাফীস ১৯*, শামসুর ১৬*; তাসকিন ১/১২)। উত্তরাঞ্চল ১ম ইনিংস : ২০৭ (রনি ৫৫, তানবীর ৩৪, আরিফুল ৫৮*; শফিউল ৬/৪০, রাজ্জাক ৪/৭২)।
