আজ শুরু হচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৩:১৩ এএম

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একাংশে আজ রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০’। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তার স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে এবারের মেলা। ঐতিহ্য অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন উদ্বোধনের রীতি থাকলেও এবার ঢাকা সিটি নির্বাচনের

ভোটের জন্য এক দিন পর শুরু হচ্ছে বইমেলা। উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ বঙ্গবন্ধু রচিত তৃতীয় বই বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘আমার দেখা নয়াচীন’-এর আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই গ্রন্থ উন্মোচন করবেন।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে মেলার প্রবেশদ্বার। ২-২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ব্যতীত মেলা প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল। স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

আয়তনের দিক থেকে পরিসর বেড়েছে এবারের মেলার। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং একাডেমি সম্মুখস্থ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ৮ লাখ বর্গফুট জায়গায় মেলা অনুষ্ঠিত হবে। গতবারের চেয়ে যা তিন লাখ বর্গফুট বেশি। বাংলা একাডেমি মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করা এবারের মেলা স্মরণকালের সবচেয়ে বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।’ এদিকে মেলাকে ঘিরে স্টল সাজানোর প্রস্তুতি শেষ করেছেন অধিকাংশ প্রকাশক। বাতিঘরের প্রকাশক দীপংকর দাশ বলেন, ‘আমাদের স্টলের প্রস্তুতি শেষ। স্টলের ডিজাইন করেছেন শিল্পী শাহীনুর রহমান, আলোক পরিকল্পনা করেছেন জুনায়েদ ইউসুফ। প্রথম দিন থেকেই সবাইকে আমন্ত্রণ জানাই বাতিঘরে।’

মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, এবার ৫৬০টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৭৩টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ৩৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৩৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এবারই প্রথম লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল মেলা প্রাঙ্গণে। সেখানে ১৫২টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দের পাশাপাশি ৬টি উন্মুক্ত স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একক ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যারা বই প্রকাশ করেছেন তাদের বই বিক্রি/প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ২৫% কমিশনে বই বিক্রি করবে। এবারও শিশুচত্বর মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে। এই কর্নারকে শিশুকিশোর বিনোদন ও শিক্ষামূলক অঙ্গসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। মাসব্যাপী গ্রন্থমেলায় এবারও ‘শিশুপ্রহর’ ঘোষণা করা হবে।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বাহিরের মোট ৬টি পথ থাকবে। বিশেষ দিনগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমির ফেলো এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের নিরাপত্তাকর্মীরা। নিরাপত্তার জন্য মেলায় তিন শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০১৯ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত