কেন্দ্রের ভেতরে বাইরে সমাগম নেই ভোটার

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৩:২১ এএম

ঢাকঢোল পিটিয়ে ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের আয়োজন করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চ্যালেঞ্জ ছিল উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ উৎরাতে পারেনি ইসি। গতকাল শনিবার নির্বাচনের দিনে দুই সিটির কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতির চিত্র ছিল হতাশাজনক। রাজধানীর অধিকাংশ কেন্দ্রের ভেতরে-বাইরে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের বড় ধরনের জমায়েত থাকলেও যেই ভোটারদের ভোটদানের জন্য এত আয়োজন, তাদের উপস্থিতিই ছিল নগণ্য।

গতকাল ভোর থেকেই কেন্দ্রগুলোতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থক ও পোলিং এজেন্টদের  আধিপাত্য দেখা গেছে। একই দৃশ্য দেখা গেছে ভোটের শেষ পর্যন্ত। বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটের পরিবেশ শান্ত থাকলেও ভোটার উপস্থিতি ছিল নগণ্য। অনেক কেন্দ্রে ভোটের শুরু থেকেই ছিল ভোটারের আকাল। কিছু কিছু কেন্দ্রে দুপুর ২টার পর নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অলস সময় কাটাতে দেখা যায়।

ডেমরার মাতুয়াইলের কাউন্সিলর কার্যালয় ভোটকেন্দ্রের ৩ নম্বর বুথে সকাল পৌনে ৯টা পর্যন্ত মাত্র একটি ভোট পড়ে। একই কেন্দ্রের ৪ নম্বর বুথে সকাল ৮.৪০ মিনিট পর্যন্ত কোনো ভোটই পড়েনি। অবশ্য বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়লেও তা উল্লেখ করার মতো ছিল না। দুপুর আড়াইটায় ডেমরার মান্নান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ভোটারের আকাল দেখা যায়। সেখানকার ৫টি বুথে মোট ভোট সংখ্যা ২১৩৯। এর মধ্যে ৩ নম্বর কক্ষের ৪৩২ ভোটের মধ্যে ওই সময় পর্যন্ত ভোট পড়েছিল মাত্র ৬৫টি। মাতুয়াইল পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ২৩০৪। এখানকার ৬টি কক্ষের ৬টি বুথে বেলা ২টা পর্যন্ত ভোট দেন মাত্র ৫৬০ জন।

দুপুর পৌনে ১২টায় আদাবর রিং রোডের বেগম নূরজাহান মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোটারদের অনুপস্থিতিতে অলস সময় পার করছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা। কোনো বুথে ৭টি আবার কোনোটিতে জমা পড়েছে মাত্র ৯টি ভোট। তখন পর্যন্ত পুরো কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের হার ১০ শতাংশের নিচে ছিল। তবে দুপুরে ভোটার বাড়লেও সেটি প্রত্যাশিত সংখ্যক ছিল না। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা লোকমান হায়দার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভোটারের চাপ খুবই কম। এ ছাড়া প্রথমবার ইভিএমে ভোট দিতে এসে বিড়ম্বনায়ও পড়ছেন কেউ কেউ।’ তবে ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে বলে দাবি এই নির্বাচনী কর্মকর্তার।

প্রায় একই চিত্র ছিল মোহাম্মদপুর, আদাবর, শেখেরটেক, জাফরাবাদ এবং ধানমণ্ডি এলাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে। ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, ভোটগ্রহণের শুরুর পর প্রথম সাড়ে চার ঘণ্টায় মাত্র ১৫ শতাংশের মতো ভোট পড়েছে সেখানে। সকাল সাড়ে ৮টায় ধানম-ির কামরুন্নেসা গার্লস হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি কেন্দ্রে থাকার সময় ভোটার এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বেশ ভিড় থাকলেও চলে যাবার পরই কেন্দ্রটি ভোটার শূন্য হয়ে পড়ে। বিকেল ৩টার দিকে মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেডের ডিটারমাইন্ড স্কুল কেন্দ্রের আটটি বুথ ঘুরে জানা যায়, তখন পর্যন্ত সেখানে ভোট পড়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ। পৌনে ৪টায় মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির মাইলস্টোন স্কুল কেন্দ্রে দেখা যায় সেখানে তখন পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৩৫ শতাংশের কম।

দুপুর ১টা ৫ মিনিটে সূত্রাপুরের ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নারী ভোটার সেখানে তেমন নেই। তবে কেন্দ্রের চারপাশে অবস্থান নিয়েছিলেন স্থানীয় আওয়ামী  লীগের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার প্রদ্যুত সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ খুব ভালো। এখন পর্যন্ত ২৬৪টি ভোট পড়েছে। আশা করছি দুপুর ২টার পর ভোটার আরও বাড়বে।’ ঢাকা দক্ষিণের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের আরমানিটোলা কেন্দ্রে সকাল থেকে ভোটার উপস্থিতি বেশি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমে যায়। এই ওয়ার্ডের অন্য কেন্দ্রগুলোতেও ছিল ভোটারের খরা। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের নির্বাচনী কর্মকর্তারা জানান, সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ১ শতাংশেরও কম ভোট পড়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে নারী ভোটারদের উপস্থিতিও  ছিল একেবারেই কম। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ওই এলাকার কয়েকজন ভোটার বলেন, সকাল থেকে কেন্দ্রের আশপাশে মহড়া দেখে সংঘর্ষের আশঙ্কায় অনেকেই ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন না। তাই কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম। প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানকার কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটার উপস্থিতি ছিল নগণ্য।

ঢাকা দক্ষিণের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাদারটকে আবদুল আজিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে দুপুর পৌনে ২টায় গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক জনসমাগম থাকলেও সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি বা তাদের কোনো লাইন নেই। তবে মাঝেমধ্যে দু-একজন করে ভোটার ভোট দিতে আসছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত