সাংবাদিকদের ইসি সচিব

ফেইসবুকে ব্যস্ত থাকায় অনেকে ভোটকেন্দ্রে যাননি

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৪:২৫ এএম

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়ে কম ভোট পড়েছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, এর কারণ জানতে গবেষণা করতে হবে। তবে তার ধারণা, ছুটির দিনে অনেকে ঘরে আরাম-আয়েশ ও ফেইসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ভোটকেন্দ্রে যাননি। ভোটের পরের দিন গতকাল রবিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৬৭ জন ভোটার থাকলেও গত শনিবার ভোট দিয়েছেন ১৪ লাখ ৭২ হাজার ১৪৬ জন। উত্তরে ভোট পড়েছে ২৫ দশমিক ৩০ শতাংশ ও দক্ষিণে পড়েছে ২৯ দশমিক ০২ শতাংশ। গড়ে দুই সিটিতে ভোট পড়েছে ২৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ অন্তত ৪০ লাখ ভোটার এ নির্বাচন ভোট দেননি।

ভোটারদের আস্থাহীনতার কারণে এত কম ভোট পড়েছে কি না জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘অনাস্থার কারণে ভোটে যায়নি, এটা আমার কাছে মনে হয়নি। তাদেরও অনেক ভোটার ভোট দিতে যাননি, যারা সরকারকে সমর্থন করেন। আমি ভোট না দিতে গেলেও সমস্যা নাই, এ ধরনের একটা মনোভাব থেকে হয়তো অনেকেই ভোট দিতে যান নাই।’ কম ভোটার উপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘জনগণ ছুটি পেয়েছে, অনেকে ছুটি ভোগ করেছে। কেউ কেউ ফেইসবুক নিয়ে ব্যস্ত ছিল।’

নির্বাচন কমিশন ভোটের এ হার নিয়ে সন্তুষ্ট কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা অসন্তুষ্ট না। প্রচার ছিল প্রচুর। আমাদের ধারণা ছিল, শতকরা ৫০ শতাংশ ভোট পড়বে। কিন্তু তার চেয়ে কম পড়েছে। ভোট কাস্টিংয়ের দিক থেকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট না।’ মো. আলমগীর আরও বলেন, ‘নির্বাচনে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল। পরিবেশ ভালো ছিল। কোথাও কোনো তেমন গণ্ডগোল হয়নি। কাউকে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বায়াস (পক্ষপাতদুষ্ট) ছিল না। সবকিছুই সঠিক ছিল।’

ভোটারদের না আনতে পারার ব্যর্থতা কমিশনের কি না জানতে চাইলে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, ‘মোটেই না। কারণ ভোটকেন্দ্রে আসার দায়িত্ব ভোটারের। বিয়ের দাওয়াত দেওয়ার দায়িত্ব আমার, কিন্তু দাওয়াতে আসবেন কি না সেটা আপনার ব্যাপার।’ তিনি আরও বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোতে ভোটের হার অনেক কম। অস্ট্রেলিয়ায় ভোট মানুষ দিতে আসে না। অস্ট্রেলিয়া সরকার ও নির্বাচন কমিশন কি ব্যর্থ, মোটেই না। এজন্য সেখানে আইন করা হয়েছে যে ভোট না দিতে এলে ১০০ ডলার জরিমানা দিতে হবে। তারা ১০০ ডলার জরিমানা দেয়, তারপরও ভোট দিতে যায় না।’ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সুপারিশ থেকে হয়তো ভোটার উপস্থিতি কম থাকার কারণ জানা যাবে বলেও জানান ইসি সচিব।

অনেক গোপন কক্ষে আরেকজন আগে থেকে দাঁড়িয়ে ছিল কিংবা গোপন কক্ষে গিয়ে একজনের ভোট অন্যজন দিয়েছে এ অভিযোগ তদন্তে কমিশন কোনো কমিটি করবে কি না, জানতে চাইলে মো. আলমগীর বলেন, ‘এ অভিযোগটি আমাদের কাছে এসেছে খুবই অল্পমাত্রায় আপনাদের মিডিয়ার মাধ্যমে। আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি।’ বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটিও আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে শুনেছি। এ বিষয়ে কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ করেননি।’ তবে এ দুই অভিযোগ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কমিশনে লিখিতভাবে এলে তদন্ত করা হবে বলেও জানান ইসি সচিব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত