বিএনপির নির্বাচনী বিপর্যয়

মহানগরের শীর্ষ নেতারাই ভোট দিতে যাননি

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৪:২৮ এএম

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি।  দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন অভিযোগ করা হলেও দলের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পরাজয়ের জন্য তাদের নিজেদের পর্যালোচনায় প্রথমেই উঠে এসেছে রাজধানীতে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা। দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে পারেনি দলটি। গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানিয়েছেন মহানগর বিএনপির একাধিক নেতা। তারা বলেন, মহানগরে সাংগঠনিক ভিত মজবুত না হওয়ার ফল দেখা গেছে সিটি নির্বাচনে। নির্বাচনের দিন কোনো ওয়ার্ডের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে দাঁড়াতে পারেননি তারা।

মহানগর নেতারা বলেন, তারা সিটি নির্বাচনে ‘অপ্রত্যাশিত’ ফলের কারণ অনুসন্ধান করছেন। তারা যেসব কারণ খুঁজে পেয়েছেন সেগুলো হলো ক্ষমতাসীনদের পক্ষে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশনের অবস্থান নেওয়া ও ডিজিটাল কারচুপি, মহানগর বিএনপির দুর্বল সাংগঠনিক অবস্থা ও কোন্দল, এজেন্টদের কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে না পারা, জামায়াতের নেতাকর্মী সমর্থকদের ভোট বর্জন, ছাত্রদল-যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক ভিত দুর্বলতাসহ বিভিন্ন বিষয়।

তারা বলেন, ঢাকা উত্তরের সভাপতি এমএ কাইয়ুম গুলশানে ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজার হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার পর থেকে দেশের বাইরে আছেন। সাধারণ সম্পাদক আহসান উদ্দিন হাসান দেশে-বিদেশে ঘুরেফিরে থাকেন। নির্বাচনের দিন হাসান ঢাকায় থাকলেও ভোট দিতে যাননি। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার ভোটকেন্দ্রে যাননি।

আহসান উদ্দিন হাসানের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে মহানগর উত্তর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেভাবে ভোটকেন্দ্রের সামনে ও আশপাশে মহড়া দিয়েছে তাতে তিনি ভোটকেন্দ্রে গেলে হামলার শিকার হতেন। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে পেলে গ্রেপ্তার করত। হামলা ও গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে সাধারণ সম্পাদক ভোটকেন্দ্রে যাননি।

যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ভোটের দিন কেন্দ্রে যাননি। ভোট না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার বিরুদ্ধে অন্তত ১২০টি ওয়ারেন্ট রয়েছে। মামলার ওয়ারেন্ট থাকায় তার পক্ষে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তাছাড়া তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে সংসদ নির্বাচনে লড়েছেন। তখনও তিনি ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি। ভোটের আগে প্রচার চালাতে পারেননি।

হাবিব-উন নবী খান সোহেলের ঘনিষ্ঠরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সোহেল ভাই ভোট দিয়েছেন। তবে কোন কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন তা বলতে পারেননি।  

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী অফিসের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি নেতারা শুরু থেকেই খুব একটা সহযোগিতা করেনি। তাদের কাছে উত্তরের থানা ও ওয়ার্ডগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নামের তালিকা চেয়েও পাওয়া যায়নি। এমনকি নির্বাচনের দিন তারা ছিলেন না ভোটকেন্দ্রে।   

তারা বলেন, সিটি নির্বাচনে পুরো মহানগর বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছে ভাবা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। মহানগর দক্ষিণের হেভিওয়েট নেতা অতীতের কোন্দল ভুলে এক মঞ্চে দাঁড়ালেও নির্বাচনের মাঠে থেকে দায়িত্ব পালনে কার্যকর ভূমিকা রাখেননি বা রাখতে পারেননি। এজেন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কর্মীদের যেকোনো প্রতিকূল অবস্থা দেখা হবে এমন আশ্বাসও ছিল না।

তারা বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য দ্বিগুণ এজেন্ট নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই ভোটকেন্দ্রে যাননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত