ভোটের দিন হামলার শিকার সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান সুমনকে গতকাল রবিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেকে) হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৪নং ওয়ার্ডের (রায়েরবাজার) নবনির্বাচিত কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ হোসেন খোকন, যার কর্মী-সমর্থকরা আগামীনিউজ ডটকমের অপরাধবিষয়ক এ প্রতিবেদককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে বলে অভিযোগ রয়েছে। সুমন দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত কাউন্সিলর খোকন মামলা করলে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খোকন।
হাসপাতালের ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন সুমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খোকন তার দুজন অনুসারীসহ ওয়ার্ডে আসেন। তখন আমি একাই ছিলাম। আমাকে দেখতে পেয়ে তিনি বেডের পাশে বসেন। কথা বলার একপর্যায়ে নির্বাচনের দিনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করার জন্য প্রথমে অনুরোধ জানান। হামলার সঙ্গে তিনি বা তার লোক জড়িত নয় দাবি করে বলতে থাকেন, তার প্রতিপক্ষের লোকজন এই হামলা চালিয়েছে।’ তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় খোকন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন জানিয়ে সুমন বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে মামলা হলে তিনি দেখে নেবেন বলে জানিয়ে যান।’
শেখ মোহাম্মদ হোসেন খোকন রাতে মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার এলাকায় নির্বাচনের সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় ইটের আঘাতে মোস্তাফিজের মাথা ফেটে যায়। কে বা কারা তাকে ইট নিক্ষেপ করেছে সেটা তদন্ত সাপেক্ষ বিষয়। আমার এলাকায় আহত হিসেবে আমি তাকে হাসপাতালে দেখতে যাই এবং তার খোঁজখবর নিই। এ ঘটনার যাতে সঠিক বিচার হয় এবং এজন্য দায়ীরা যাতে চিহ্নিত হয় তার জন্য আমার পূর্ণ সমর্থন থাকার কথা জানাই। আমাদের মধ্যে মামলা নিয়ে কোনো কথাই হয়নি।’
খোকন আরও বলেন, ‘বিকেল থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ফোন করে মোস্তাফিজকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানান। এ ঘটনার পর থেকে আমি নিজেও শঙ্কিত হয়ে পড়েছি। এর পেছনে কারা কলকাঠি নাড়ছে বুঝতে পারছি না।’
