ক্র্যাপ জাহাজ বিক্রি করে ৪৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:০৭ এএম

এলসির বিপরীতে পুরাতন জাহাজ আমদানির পর বিক্রি করে প্রায় সাড়ে ৪৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এবি ব্যাংকের এক ম্যানেজার ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতে আসামি হচ্ছেন ব্যাংকটির চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখার সাবেক ম্যানেজার মোহাম্মদ ইসহাক চৌধুরী ও নগরীর খুলশী এলাকার ব্যবসায়ী ও লিজেন্ড হোল্ডিংয়ের মালিক সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল হাই (এসএম আবদুল হাই)। গতকাল সোমবার কমিশন এ মামলা অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিগগিরই সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ মামলাটি করা হবে। অভিযোগের অনুসন্ধান করেন কমিশনের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিজেন্ড হোল্ডিংয়ের মালিক আবদুল হাই ক্র্যাপ ভেসেল আমদানির জন্য ২০১৪ সালের ৮ মে এবি ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় একটি এলসি খোলেন। ৭৫ দশমিক ৬০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যে জাহাজটি আমদানি করে সেটি বিক্রি করা হয়। আমদানি করা পণ্য বিক্রি করে এলসি হিসাব সমন্বয় করার শর্ত থাকলেও পণ্য বিক্রির টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকার কর্র্তৃক যথাযথ তদারকির অভাব অথবা ঋণগ্রহীতার সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তার যোগসাজশ দেখা গেছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, মার্জিন ও ব্যাংকের প্রদান করা টাকা বাদ দিয়ে ৪৪ কোটি ৪৬ লাখ ১৬ হাজার টাকার ফোর্স লোন সৃষ্টি করে দায় সৃষ্টি করা হয়েছে। ব্যবসায় লোকসান হলেও আমদানি করা জাহাজের সম্পূর্ণ মূল্য লোকসান হওয়ার কথা নয়। ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ইসহাক চৌধুরী আমদানিকারককে অবৈধভাবে লাভবান করার উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ওই এলসি খোলেন। তার যোগসাজশে ব্যাংক থেকে রপ্তানিকারককে জাহাজের দাম শোধ করে দেওয়া হয়। ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপককে সহায়তায় আমদানিকারক ওই অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলসি ঋণের শর্তে প্রতি ১০ দিন পরপর স্টক প্রতিবেদন দাখিলের নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। ব্যাংকের সিএএম বিভাগের নথিতে মাত্র কয়েকটি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। শাখা ব্যবস্থাপক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ইয়ার্ড ভিজিটের জন্য নিযুক্ত করেননি। তাছাড়া বছর শেষে গ্রাহকের আর্থিক বিবরণী (ব্যালেন্স শিট, ইনকাম

স্টেটমেন্ট, ট্রেডিং হিসাব) দাখিল করার নিয়ম থাকলেও তা পরিপালন করা হয়নি।

দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশুমার দুর্নীতির কারণে নাজুক প্রতিষ্ঠান হয়ে পড়েছে এবি ব্যাংক। ভুয়া ঋণ ও এলসি জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকটির শতশত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত কয়েকটি মামলাও করেছে দুদক। গত বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের পোর্ট কানেক্টিং শাখা থেকে ১৩৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুই ব্যাংকারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া গত ৩১ জুলাই দুটি ঘটনায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাতের অভিযোগে আরও একটি মামলা করেছে দুদক। ১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কমিশন। এছাড়া এবি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভুয়া ঋণের নামে শতকোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য দুদকে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে তারা বলেছে, ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তারা অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রের সদস্য।

তারা আরও জানিয়েছেন, এছাড়াও ভুয়া অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগ ও কনসালট্যান্সি ফি বাবদ ১৬৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক, ব্যাংকটির ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন অ্যান্ড ট্রেজারি শাখার প্রধান আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং ব্যবসায়ী সাইফুল হককে গত বছর ১৮ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে দুদক।

দুদকের এক উপপরিচালক জানান, এবি ব্যাংক থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলকে ঋণ দেওয়ার নামে প্রায় ৪০০ কোটি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত