সোমবার বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে সারা দেশে ২০২০ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। কিন্তু প্রথম দিনের পরীক্ষায় বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরীক্ষার্থীকে ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। আগের বছরের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে এবারের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের। আবার কোথাও কোথাও এবারের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে আগের বছরের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের। এমন ভুলের শিকার হওয়া পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহের ঘটনা নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহ ও প্রশ্নপত্রে ভুলের ঘটনা এই প্রথম নয়। পরীক্ষাকেন্দ্র ও প্রশ্নপত্র বিতরণের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বিষয়টিকে ‘সামান্য ভুল’ হিসেবে দাবি করলেও এ ধরনের ভুল ছোট করে দেখার উপায় নেই। সোমবার এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বিভিন্ন স্থানে আলোচনায় ছিল পরীক্ষার্থীদের ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহের ঘটনা।
দেশ রূপান্তরে ‘ভুল প্রশ্নে বিভিন্ন জেলায় পরীক্ষা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সোমবার বরিশাল, দিনাজপুর এবং রাজশাহী বোর্ডের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঁচ শতাধিক পরীক্ষার্থীকে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বোর্ডগুলোর বিভিন্ন কেন্দ্রে ২০১৮ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রণয়ন করা নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন ২০২০ সালের নিয়মিত কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করা হয়, আবার ২০২০ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রণয়ন করা নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন ২০১৮ সালের অনিয়মিত কয়েক পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করা হয়। কোথাও কোথাও পরীক্ষা চলাকালীন বিষয়টি পরীক্ষার্থীদের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেন কেন্দ্র সচিব। তবে যারা সম্পূর্ণ পরীক্ষাটিই ভুল প্রশ্নে দিয়েছে তাদের আর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। লালমনিরহাটের সদর উপজেলার বড়বাড়ী শহীদ আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে ১৯৩ জন নিয়মিত শিক্ষার্থীকে ২০১৮ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য করা প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। নীলফামারীর রাবেয়া বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০১৮ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে নিয়মিত ৯৮ জন পরীক্ষার্থী এক ঘণ্টা পরীক্ষা দিয়েছে। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ বিইউ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র নিয়মিত অন্তত ১৫ পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করা হয়। বরিশালের হালিমা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের অন্তত ২০ জন পরীক্ষার্থীকে ভুল প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। ঠাকুরগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও একই ঘটনা ঘটে।
ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহের বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, যারা ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছে তারা ভুক্তভোগী হবে না। কারণ তারা যে প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছে সেই প্রশ্নেই মূল্যায়ন করা হবে এবং যদি কোনো উত্তর দিতে ভুলও করে তবুও তারা সেই প্রশ্নের পুরো নম্বর পেয়ে যাবে। ফলে পরীক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তবে যেসব শিক্ষক এমন ভুল প্রশ্ন পরীক্ষার্থীদের সরবরাহ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহ করায় লালমনিরহাটের বড়বাড়ী শহীদ আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবসহ ১৭ শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ বিইউ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় মাধ্যমিক স্তর সমাপনী বা এসএসসি পরীক্ষা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এই ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা নিশ্চিতভাবেই পরীক্ষাকেন্দ্র ও প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় শিক্ষা কাঠামোর বড় ধরনের দুর্বলতারই পরিচায়ক। এ প্রসঙ্গে স্মরণ করা যেতে পারে ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় একই রকম ভুলের কথা। গত বছর এ রকম ভুলের পর জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছিলেন, এসএসসি পরীক্ষায় যে ১৮টি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হয়েছে, সেই উত্তরপত্রগুলো ভিন্নভাবে দেখা হবে, যাতে কেউ কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আর তদন্ত করে এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্ন হলো, একই রকম ভুল বারবার হচ্ছে কেন? এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষায় এ ধরনের ভুলের শিকার শিক্ষার্থীরা যে মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন তা গুরুতর। এমন ভুল শিক্ষার্থীদের বাকি পরীক্ষার ফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। জাতীয় শিক্ষা বোর্ড এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও সতর্কতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
