সাভারে যৌতুকের টাকা না পেয়ে এক গৃহবধূকে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার সাভার মডেল থানায় মামলার পর অগ্নিদগ্ধ রেখা আক্তারের (২২) স্বামী কাউসারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর আগে গত সোমবার দুপুরে সাভারের আমিনবাজার বেগুনবাড়িতে দাবি করা যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূ রেখার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে স্বামী কাউসার ও শ্বশুর বাদশা মিয়া। পরে প্রতিবেশীরা অগ্নিদগ্ধ রেখাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে। এ ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ রেখার দুলাভাই মো. নুরুজ্জামান বাদী হয়ে গতকাল সাভার মডেল থানায় মামলা করেন।
ওই মামলার এজাহারে বলা হয়, পাঁচ বছর আগে আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে কাউসারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে রেখার বিয়ে হয়। এই দম্পতির আট মাস বয়সের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী কাউসার ও তার বাবা বাদশা মিয়া রেখার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের টাকার জন্য স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন রেখাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করায় কিছুদিন আগে তার পরিবার কাউসারকে ৭০ হাজার টাকা যৌতুক দেয়। কিন্তু দাবি করা যৌতুকের বাকি টাকার জন্য রেখাকে বিভিন্ন সময় মারধর করত কাউসার। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার হঠাৎ করে আবারও রেখাকে বাবার বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে দিতে বলে কাউসার। কিন্তু এতে রাজি না হওয়ায় দুপুরে শ্বশুর বাদশা মিয়া রেখার শরীরে পেট্রল ঢেলে দেয় এবং স্বামী কাউসার দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন রেখার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তার বাবার বাড়িতে খবর দেয় এবং অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে।
সাভার মডেল থানার ওসি এএফএম সায়েদ গতকাল বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গৃহবধূ রেখাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা হয়েছে। প্রধান আসামি কাউসারকে গ্রেপ্তার করে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে গতকাল দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
মামলার আরেক আসামি রেখার শ্বশুর বাদশা মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান ওসি সায়েদ।
