ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দক্ষিণে না পারলেও উত্তরে মেয়র প্রার্থী দিতে পেরেছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। নির্বাচনে কাস্তে প্রতীকে মাত্র ১৫ হাজার ১২২ ভোট পেলেও দলগত ও রাজনৈতিকভাবে বেশ কিছু অর্জন দেখছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। দেশের অন্যতম প্রাচীন এ দলটির নেতাদের ভাষ্যমতে, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পার্টির সাংগঠনিক দুর্বলতা দলের সামনে স্পষ্ট হয়েছে; পাশাপাশি যেসব লক্ষ্য নিয়ে সিপিবি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল তাও পূরণ হয়েছে। কারণ বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই নির্বাচনে অংশ নিলেই সিপিবি প্রার্থীরা জয়লাভ করবেন না তা তারা জানতেন।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে সিপিবির এক কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, এযাবৎকালের ঢাকা সিটি নির্বাচনে এটাই কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ ভোট। যেখানে মানুষ ভোট দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে সেখানে এই ভোটকে মানুষের মধ্যে বিকল্প স্মারক হিসেবে দেখছে দলটি। তবে এতে সন্তুষ্ট নন দলটির নেতারা। কারণ ভোটের ফলাফলে যে সংখ্যাটা দেখানো হয়েছে, সেটা প্রকৃত সংখ্যা নয়। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এই ভোট আরও বেশি হতো।
নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে সিপিবির মনোনয়ন পেয়েছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল। তিনি পরাজিত হলেও গত সিটি নির্বাচনের চেয়ে ৬ গুণ বেশি ভোট পেয়েছেন। ২০১৫ সালে উত্তর সিটি নির্বাচনে বৈধ ভোট পড়েছিল ৮ লাখ ৪১ হাজার। এর মধ্যে সিপিবি পেয়েছিল ২ হাজার ৪৭৫ ভোট। এবারের নির্বাচনে বৈধ ভোট পড়েছে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৬৫৮টি। এর মধ্যে সিপিবি পেয়েছে ১৫ হাজার ১২২ ভোট।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘নির্বাচনের শুরুতে আমরা টাকার খেলার কাছে পরাজিত হয়েছি। ভোটের দিনে যারা ভোট দিতে গিয়েছে তারাও ঠিকভাবে নিজের ভোট দিতে পারেনি। আমরা আমাদের প্রাপ্ত ভোট নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করছি। ভোটের পুরো চিত্র জণগণের কাছে তুলে ধরব।’ নিজেদের ভোট বাড়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচনে আমাদের কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। আমরা আমাদের দাবি নিয়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে গিয়েছি। দুদলের লুটপাটের বাইরে মানুষ বিকল্প শক্তি হিসেবে আমাদের ভোট দিয়েছে। আমাদের অনেক ভোটারকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। নইলে ভোটের সংখ্যা আরও বাড়ত।’ কাস্তে মার্কার প্রার্থী আহমেদ সাজেদুল হক রুবেল বলেন, ‘ভোটের আগের রাত থেকে ভোটকেন্দ্রে বোমাবাজিসহ কেন্দ্র দখল করার মতো ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ কেন্দ্রে সরকারি দল দখলদারিত্ব সৃষ্টি করে জনমনে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিল, যাতে জনগণ ভোটকেন্দ্রে আসতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষে ঢুকে, ভোটারদের ভোটটিও দিতে না দিয়ে সরকারদলীয় কর্মীরা নিজেরাই সে ভোট দেওয়ার কাজটিও সম্পন্ন করে। আমাদের পার্টির ভোটারদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
